খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

সময়ের সন্ধানে ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৭:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১৩ বার পড়া হয়েছে
সময়ের সন্ধানে মিডিয়া লিঃ সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি:সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এই প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস খালেদা জিয়ার প্রয়াণ নিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে তাকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণকারী দুই রাজনৈতিক পরিবারের কয়েক দশকের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অবসান ঘটল। পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে, ১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া এই নেত্রী সাধারণ গৃহবধূ থেকে ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার গল্পটি ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার ‘আপসহীন’ নেতৃত্ব তাকে গণমানুষের নেত্রীতে পরিণত করে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের শোক
প্রতিবেদনে বেগম জিয়ার জীবনের শেষ দশকের চরম প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তাকে বছরের পর বছর জেল ও গৃহবন্দিত্বের ঘানি টানতে হয়েছে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লিভার ও ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, গত বছর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর তিনি মুক্তি পেলেও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তাকে হাসপাতালেই থাকতে হয়েছে।

হাসপাতালের বিছানায় থেকেও খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। শেখ হাসিনার পতনকে তিনি ‘স্বৈরাচারের পতন’ বলে অভিহিত করেছিলেন, যা ছিল জনসমক্ষে তার শেষ বক্তব্য।

উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি তাকে তিনটি আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগেই দেশমাতা চিরবিদায় নিলেন। বড় ছেলে তারেক রহমান বর্তমানে প্রবাসে থেকে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ছোট ছেলে আরাফাত রহমান ২০১৫ সালে আগেই মারা গেছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০০৯ সালে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়া থেকে শুরু করে ২০২১ সালে কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর করুণ পরিস্থিতির শিকার হওয়া—প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি অসীম ধৈর্য দেখিয়েছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ক্ষমতার রাজনীতির এক দীর্ঘ এবং বৈচিত্র্যময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। দেশজুড়ে আজ কেবল হাহাকার আর সোনা বা জানমালের চেয়েও মূল্যবান এক অভিভাবককে হারানোর শোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

আপডেট সময় : ০৭:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

ছবি:সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এই প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস খালেদা জিয়ার প্রয়াণ নিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে তাকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণকারী দুই রাজনৈতিক পরিবারের কয়েক দশকের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অবসান ঘটল। পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে, ১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া এই নেত্রী সাধারণ গৃহবধূ থেকে ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার গল্পটি ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার ‘আপসহীন’ নেতৃত্ব তাকে গণমানুষের নেত্রীতে পরিণত করে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের শোক
প্রতিবেদনে বেগম জিয়ার জীবনের শেষ দশকের চরম প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তাকে বছরের পর বছর জেল ও গৃহবন্দিত্বের ঘানি টানতে হয়েছে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লিভার ও ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, গত বছর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর তিনি মুক্তি পেলেও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তাকে হাসপাতালেই থাকতে হয়েছে।

হাসপাতালের বিছানায় থেকেও খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। শেখ হাসিনার পতনকে তিনি ‘স্বৈরাচারের পতন’ বলে অভিহিত করেছিলেন, যা ছিল জনসমক্ষে তার শেষ বক্তব্য।

উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি তাকে তিনটি আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগেই দেশমাতা চিরবিদায় নিলেন। বড় ছেলে তারেক রহমান বর্তমানে প্রবাসে থেকে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ছোট ছেলে আরাফাত রহমান ২০১৫ সালে আগেই মারা গেছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০০৯ সালে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়া থেকে শুরু করে ২০২১ সালে কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর করুণ পরিস্থিতির শিকার হওয়া—প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি অসীম ধৈর্য দেখিয়েছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ক্ষমতার রাজনীতির এক দীর্ঘ এবং বৈচিত্র্যময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। দেশজুড়ে আজ কেবল হাহাকার আর সোনা বা জানমালের চেয়েও মূল্যবান এক অভিভাবককে হারানোর শোক।