ভয়াবহ সংকটের মুখে ইরান, লেগে যেতে পারে হাহাকার
- আপডেট সময় : ১১:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

ছবি:সংগৃহীত
শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে ইরান। রাজধানী তেহরানের পানির প্রধান উৎস আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই শুকিয়ে যেতে পারে, যার ফলে দেখা দিতে পারে তীব্র খরা।
রোববার (৩ নভেম্বর) এমনই একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরএনএ। খবর আল জাজিরার।
রাজধানীর পানি ব্যবস্থাপনা সংস্থার পরিচালক বেহজাদ পারসাকে উদ্ধৃত করে আইআরএনএ জানিয়েছে, রাজধানীর পানযোগ্য পানি সরবরাহকারী পাঁচটি বাঁধের মধ্যে একটি আমির কবির বাঁধ। এই জলাধারটিতে মাত্র ১৪ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি আছে এখন, যা এর মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৮ শতাংশ।
বেহজাদ পারসা আরও জানিয়েছেন, এই স্তরে জলাধারটি মাত্র ‘দুই সপ্তাহের মতো’ তেহরানে পানি সরবরাহ চালিয়ে যেতে পারে। ১ কোটিরও বেশি লোকের এই মহানগরটি প্রায়ই বরফে আচ্ছাদিত থাকে এবং আলবোর্জ পর্বতমালার দক্ষিণ ঢালের বিপরীতে অবস্থিত। এই পর্বতমালা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৬০০ মিটার (১৮০০০ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত এবং পর্বতমালা থেকে নেমে আসা নদীগুলো একাধিক জলাধারকে পানি সরবরাহ করে।
কিন্তু, বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তেহরান।
গত মাসেই স্থানীয় এক কর্মকর্তা ঘোষণা করেছিলেন, তেহরানে বৃষ্টিপাতের মাত্রা প্রায় এক শতাব্দী ধরে নজিরবিহীনভাবে কম ছিল। পারসা বলেন, এক বছর আগেও আমির কবির বাঁধ ৮৬ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি ধরে রেখেছিল, কিন্তু তেহরান অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ১০০ শতাংশ কমে গেছে।
এদিকে অন্য জলাধারগুলোর অবস্থা সম্পর্কে এখনও বিশদ বিবরণ দেননি বেহজাদ পারসা। তবে, ধারণা করা হচ্ছে আসন্ন খরা গ্রাস করতে পারে ইরানের অনেক অঞ্চল।
ইরানি মিডিয়া অনুসারে, তেহরানের জনগণ প্রতিদিন প্রায় তিন মিলিয়ন ঘনমিটার পানি ব্যবহার করে।
পানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা হিসেবে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া এই গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটও দেখা দিয়েছে। জুলাই এবং আগস্ট মাসে পানি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য দুই দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছিল ইরানে।
























