ডিবি পরিচয়ে প্রেম,চাইনিজ খাওয়ার নামে দুই নারীর মালামাল লুটের অভিযোগে বাগমারায় দুই প্রতারক-গ্রেপ্তার

রাজশাহী প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৭:৩১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে
সময়ের সন্ধানে মিডিয়া লিঃ সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি:সংগৃহীত

চাইনিজ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে কফির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দুই নারীকে অজ্ঞান করে মালামাল লুটের অভিযোগে রাজশাহীর বাগমারায় দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে লুট হওয়া দুই জোড়া নুপুর উদ্ধার করা হলেও বাকি মালামাল পাওয়া যায়নি।

আটক ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার আলাদিঘি গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম (২৪) এবং একই উপজেলার কালনা গ্রামের মশিউর রহমান (২৩)। রোববার (২৬ অক্টোবর) প্রতারিত নারী রুপা খাতুনের দায়ের করা মামলায় তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। রুপা চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন; তাঁর গ্রামের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাঁড়া গ্রামে।
পুলিশ ও স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে “কষ্টের জীবন” নামে খোলা আইডি থেকে রুপা খাতুনের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন তৌহিদুল। তিনি নিজেকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে রুপার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করেন।
সম্প্রতি রুপা গ্রামের বাড়িতে আসার পর গত ২০ অক্টোবর তৌহিদুল তাঁর সহযোগীকে নিয়ে রুপার সঙ্গে দেখা করতে বান্দাইখাঁড়া বাজারে যান। সেদিন রুপার সঙ্গে ছিলেন তাঁর খালাতো বোন (১৮) ও ভাই (৭)। প্রথমে তাঁদের কফি পান করানো হয়; এরপর চাইনিজ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ নিউমার্কেটের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নেওয়া হয়।
কিছুক্ষণ পর রুপা ও তাঁর বোন অচেতন হয়ে পড়েন। পরে দুই নারীকে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং শিশু ভাইটিকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির সামনে রেখে পালিয়ে যায় প্রতারকরা।
ওই দিন গভীর রাতে চেতনা ফিরে নারীরা নিজেদের হাসপাতালে দেখতে পান। এসময় তাঁদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন, দুল, হার, নুপুরসহ পাঁচ লক্ষাধিক টাকার সোনার অলংকার চুরি হয়েছে বলে জানান। চিকিৎসা শেষে তাঁরা পরিবারের সহযোগিতায় বাড়ি ফেরেন এবং পুরো ঘটনা জানান।
গত শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাতে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতভর অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। শনিবার থানায় নিয়ে মুখোমুখি করলে দুই নারী তাঁদের শনাক্ত করেন। তবে উদ্ধার করতে পেরেছে শুধু দুই জোড়া নুপুর।প্রতারিত রুপা বলেন, “ওই যুবকের কোমরে পিস্তলের মতো কিছু ঝোলানো ছিল। তাই ডিবি পুলিশের লোক মনে করে বিশ্বাস করেছিলাম।একজন স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দুই মেয়ের শরীরেই অনেক সোনার গহনা ছিল। শিশুটিকে বাড়ির সামনে ফেলে পালিয়েছে তারা।চাইনিজ রেস্টুরেন্টের পরিচালক নাঈম হোসেন বলেন, “ঘটনা সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। একজন গোয়েন্দা এসে তথ্য নিয়ে গেছে। এখানে নানা লোক আসে।
বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, “দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে লুট হওয়া বাকি মালামাল ফেরত দেয়নি। রিমান্ডে এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ডিবি পরিচয়ে প্রেম,চাইনিজ খাওয়ার নামে দুই নারীর মালামাল লুটের অভিযোগে বাগমারায় দুই প্রতারক-গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৭:৩১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

ছবি:সংগৃহীত

চাইনিজ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে কফির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দুই নারীকে অজ্ঞান করে মালামাল লুটের অভিযোগে রাজশাহীর বাগমারায় দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে লুট হওয়া দুই জোড়া নুপুর উদ্ধার করা হলেও বাকি মালামাল পাওয়া যায়নি।

আটক ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার আলাদিঘি গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম (২৪) এবং একই উপজেলার কালনা গ্রামের মশিউর রহমান (২৩)। রোববার (২৬ অক্টোবর) প্রতারিত নারী রুপা খাতুনের দায়ের করা মামলায় তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। রুপা চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন; তাঁর গ্রামের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাঁড়া গ্রামে।
পুলিশ ও স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে “কষ্টের জীবন” নামে খোলা আইডি থেকে রুপা খাতুনের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন তৌহিদুল। তিনি নিজেকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে রুপার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করেন।
সম্প্রতি রুপা গ্রামের বাড়িতে আসার পর গত ২০ অক্টোবর তৌহিদুল তাঁর সহযোগীকে নিয়ে রুপার সঙ্গে দেখা করতে বান্দাইখাঁড়া বাজারে যান। সেদিন রুপার সঙ্গে ছিলেন তাঁর খালাতো বোন (১৮) ও ভাই (৭)। প্রথমে তাঁদের কফি পান করানো হয়; এরপর চাইনিজ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ নিউমার্কেটের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নেওয়া হয়।
কিছুক্ষণ পর রুপা ও তাঁর বোন অচেতন হয়ে পড়েন। পরে দুই নারীকে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং শিশু ভাইটিকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির সামনে রেখে পালিয়ে যায় প্রতারকরা।
ওই দিন গভীর রাতে চেতনা ফিরে নারীরা নিজেদের হাসপাতালে দেখতে পান। এসময় তাঁদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন, দুল, হার, নুপুরসহ পাঁচ লক্ষাধিক টাকার সোনার অলংকার চুরি হয়েছে বলে জানান। চিকিৎসা শেষে তাঁরা পরিবারের সহযোগিতায় বাড়ি ফেরেন এবং পুরো ঘটনা জানান।
গত শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাতে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতভর অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। শনিবার থানায় নিয়ে মুখোমুখি করলে দুই নারী তাঁদের শনাক্ত করেন। তবে উদ্ধার করতে পেরেছে শুধু দুই জোড়া নুপুর।প্রতারিত রুপা বলেন, “ওই যুবকের কোমরে পিস্তলের মতো কিছু ঝোলানো ছিল। তাই ডিবি পুলিশের লোক মনে করে বিশ্বাস করেছিলাম।একজন স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দুই মেয়ের শরীরেই অনেক সোনার গহনা ছিল। শিশুটিকে বাড়ির সামনে ফেলে পালিয়েছে তারা।চাইনিজ রেস্টুরেন্টের পরিচালক নাঈম হোসেন বলেন, “ঘটনা সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। একজন গোয়েন্দা এসে তথ্য নিয়ে গেছে। এখানে নানা লোক আসে।
বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, “দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে লুট হওয়া বাকি মালামাল ফেরত দেয়নি। রিমান্ডে এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।