ইউপি সদস্যের নির্দেশে পাঁচ তরুণের মাথা ন্যাড়া
- আপডেট সময় : ০৮:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ৬০ বার পড়া হয়েছে
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

ছবি:সংগৃহীত
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছাটবাইশদিয়া ইউনিয়নের মধ্য চতলাখালী গ্রামে এক ইউপি সদস্যের নির্দেশে প্রকাশ্যভাবে পাঁচ তরুণের মাথা ন্যাড়া করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) সকাল প্রায় ১০টার দিকে ইউনিয়নের খুতির বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রেশাদ খলিফা ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
জানা যায়, রোববার (২৬ অক্টোবর) সকাল প্রায় ১০টার দিকে ইউনিয়নের খুতির বাজারে ইউপি সদস্য রেশাদ খলিফা ডেকে সালিশ বসান। ভিডিওতে দেখা যায় ওই সালিশে উপস্থিত থাকা নাপিত তিনি একে একে তরুণদের মাথা কেটে দিচ্ছেন; সেখানে রেশাদ খলিফা লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে তদারকি করছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শতাধিক মানুষ এই কাণ্ড দেখেন।
ভুক্তভোগীদের বয়স ১৭ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে দুইজন কলেজছাত্র ও একজন মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র। নিহত বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা না থাকলেও তারা বলছেন জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের সময় কয়েকজনের মধ্যে মারামারি হয়েছিল; এর পরের দিন সালিশে তাদের সবাইকে ‘বখাটে’ বলে আখ্যা দিয়ে মাথা ন্যাড়া করা হয়। ভুক্তভোগীরা দাবি করেন—তারা মূলত মারামারি থামাতে গিয়েছিলেন।
নাপিত স্বীকার করে জানান, রেশাদ খলিফার নির্দেশে তিনি তরুণদের চুল কেটে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নয়ন সরদার বলেন, আমাদের অপরাধ ছিল না; আমরা মারামারি থামাতে গিয়েছিলাম তারপরও আমার চুল কেটে দেওয়া হলো। আমি অনুরোধ করলেও ইউপি সদস্য শুনলেন না।
নয়নের মা ঝর্ণা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার সন্তানের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। সে কোনো গুরুতর অপরাধ করেনি।
ঘটনার বিষয়ে অপর এক ভুক্তভোগী রাবি বলেন, রিয়ানের সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছিল; তবে আমি মারামারি করিনি। সালিশে আমাদের সবাইকে চুল কাটা হল।
রাবির মা মাহফুজা বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ মিটে গিয়েছিল; তবুও আমাদের এ অপমান করা হল।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রেশাদ খলিফাকে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না, আমি সেখানে ছিলাম না। তবে ভিডিও ফুটেজে তিনি লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন ও ঘটনাটি তদারকি করছেন বলে দেখা যায়।
স্থানীয়রা বলেন, ইউপি সদস্য প্রভাবশালী হওয়ায় অনেক পরিবার ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না। তাদের দাবি ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যেন আর কোনো জনপ্রতিনিধি ‘নিজস্ব আদালত’ বসাতে না পারে।
ক্লিনিকের ভেতরেই নার্সকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে
গ্রাম আদালত সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলার গ্রাম আদালত কো-অর্ডিনেটর মা. ইমাম হাসন সায়ম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে সালিশ করার সুযোগ নেই। সালিশের নামে এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ আইনবিরোধী এবং জনপ্রতিনিধির এমন ক্ষমতা নেই।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে; সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নিবে পুলিশ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো লজ্জা ও অনিশ্চয়তায় ভুগছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও সচেতনতামূলক মহলও প্রশাসনের তৎপরতা কামনা করেছেন।


























