যেভাবে অপহরণ করা হয় মুফতি মহিবুল্লাহকে

সময়ের সন্ধানে প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ২১৯ বার পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

সময়ের সন্ধানে মিডিয়া লিঃ সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি:সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী থেকে নিখোঁজ বিটিসিএল টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদের খতিব মুফতি মো. মহিবুল্লাহ মিয়াজীকে (৬০) পঞ্চগড় থেকে উদ্ধার করছে স্থানীয়রা।

নিখোঁজের একদিন পর বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে পঞ্চগড়ের হেলিপ্যাড বাজার এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে পা-বাঁধা ও বিবস্ত্র অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

নিজের অপহরণের বিষয়ে মুফতি মহিবুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, বুধবার ফজরের নামাজের পর হাঁটতে বের হলে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে পাঁচজন এসে তার মুখে কাপড় চেপে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে অমানবিক নির্যাতন করে তারা।

তিনি আরও বলেন, কয়েক মাস ধরেই আমাকে একাধিক চিঠি দিয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। ইসকনের নেতা চিন্ময়ের পক্ষে কথা বলতে বলা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপির বিরুদ্ধে কথা বলতে বলা হয়েছে। হিন্দু-মুসলমান প্রেমের পক্ষে কথা বলতে বলা হয়েছে। তাদের কথামতো মসজিদে বয়ান দিলে আমাকে কোটি টাকা দেওয়ার কথাও বলেছে তারা। আর না বললে আমাকে প্রাণনাশ ও আমার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

আরও একটি লম্বা ছুটি আসছে
মুফতি মহিবুল্লাহ বলেন, অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে আমাকে বিবস্ত্র করে মারধর করেছে তারা। বোতলে পানি ভরে সেই বোতল দিয়ে আমার ঊরুতে মারধর করেছে। তারা পাঁচজন ছিল।

তিনি বলেন, তারা প্রমিত বাংলায় কথা বলছিল। তাদের কথাবার্তা শুনে তাদের বাংলাদেশি বলে মনে হয়নি। তারা একেক করে সব আলেমের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমি এখন নিরাপত্তা চাই, বিচার চাই।

এদিকে, পঞ্চগড় ইসলামী আন্দোলনের সহসভাপতি ক্বারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, মুফতি মহিবুল্লাহকে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। তার পায়ে শিকল ছিল। সেই শিকল দিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সকালে নামাজের পর স্থানীয় মসজিদের ইমাম তাকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে আমরা ভোরে খবর পাই হেলিপ্যাড এলাকায় শিকলে বাঁধা একজন বয়স্ক মানুষ পড়ে আছেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আমরা তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করি। তারা টঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

টঙ্গী থানায় তার পরিবারের করা সাধারণ ডায়েরি থেকে জানা যায়, প্রায় ৫ মাস আগে জুমার বয়ানে ইসকনবিরোধী কথা বলেছিলেন তিনি। তারপর থেকেই ইসকনের বরাত দিয়ে একের পর এক চিঠি দিয়ে হুমকি দেওয়া হতো তাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

যেভাবে অপহরণ করা হয় মুফতি মহিবুল্লাহকে

আপডেট সময় : ০৮:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

ছবি:সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী থেকে নিখোঁজ বিটিসিএল টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদের খতিব মুফতি মো. মহিবুল্লাহ মিয়াজীকে (৬০) পঞ্চগড় থেকে উদ্ধার করছে স্থানীয়রা।

নিখোঁজের একদিন পর বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে পঞ্চগড়ের হেলিপ্যাড বাজার এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে পা-বাঁধা ও বিবস্ত্র অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

নিজের অপহরণের বিষয়ে মুফতি মহিবুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, বুধবার ফজরের নামাজের পর হাঁটতে বের হলে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে পাঁচজন এসে তার মুখে কাপড় চেপে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে অমানবিক নির্যাতন করে তারা।

তিনি আরও বলেন, কয়েক মাস ধরেই আমাকে একাধিক চিঠি দিয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। ইসকনের নেতা চিন্ময়ের পক্ষে কথা বলতে বলা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপির বিরুদ্ধে কথা বলতে বলা হয়েছে। হিন্দু-মুসলমান প্রেমের পক্ষে কথা বলতে বলা হয়েছে। তাদের কথামতো মসজিদে বয়ান দিলে আমাকে কোটি টাকা দেওয়ার কথাও বলেছে তারা। আর না বললে আমাকে প্রাণনাশ ও আমার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

আরও একটি লম্বা ছুটি আসছে
মুফতি মহিবুল্লাহ বলেন, অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে আমাকে বিবস্ত্র করে মারধর করেছে তারা। বোতলে পানি ভরে সেই বোতল দিয়ে আমার ঊরুতে মারধর করেছে। তারা পাঁচজন ছিল।

তিনি বলেন, তারা প্রমিত বাংলায় কথা বলছিল। তাদের কথাবার্তা শুনে তাদের বাংলাদেশি বলে মনে হয়নি। তারা একেক করে সব আলেমের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমি এখন নিরাপত্তা চাই, বিচার চাই।

এদিকে, পঞ্চগড় ইসলামী আন্দোলনের সহসভাপতি ক্বারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, মুফতি মহিবুল্লাহকে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। তার পায়ে শিকল ছিল। সেই শিকল দিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সকালে নামাজের পর স্থানীয় মসজিদের ইমাম তাকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে আমরা ভোরে খবর পাই হেলিপ্যাড এলাকায় শিকলে বাঁধা একজন বয়স্ক মানুষ পড়ে আছেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আমরা তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করি। তারা টঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

টঙ্গী থানায় তার পরিবারের করা সাধারণ ডায়েরি থেকে জানা যায়, প্রায় ৫ মাস আগে জুমার বয়ানে ইসকনবিরোধী কথা বলেছিলেন তিনি। তারপর থেকেই ইসকনের বরাত দিয়ে একের পর এক চিঠি দিয়ে হুমকি দেওয়া হতো তাকে।