দীপাবলিতে খেলনা বন্দুক বিস্ফোরণ, চোখ হারাল ১৪ শিশু
- আপডেট সময় : ০৬:৫৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ১৮২ বার পড়া হয়েছে
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের দীপাবলির আলোর উৎসব এবার বহু পরিবারে নামিয়ে এনেছে চির-অন্ধকারের আতঙ্ক। যে বাজির শব্দে আনন্দের ঢেউ আসার কথা ছিল, সেই বাজিই পরিণত হয়েছে এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। দেশটির মধ্যপ্রদেশে ‘কার্বাইড গান’ নামক দেশীয় বাজির বন্দুক দিয়ে বাজি ফাটাতে গিয়ে ১৪ জন শিশু স্থায়ীভাবে তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। রাজ্যটির বিভিন্ন জেলায় ১২২ জনেরও বেশি শিশু চোখে গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
এনডিটিভি জানায়, ১৫০ থেকে ২০০ রুপিতে বিক্রি হওয়া এই যন্ত্রগুলো দেখতে খেলনার মতো হলেও বিস্ফোরণের সময় বোমার মতো শব্দ করছে। শিশুরা প্লাস্টিক বা টিনের পাইপে গানপাউডার, দেশলাইয়ের মাথা ও ক্যালসিয়াম কার্বাইড মিশিয়ে এটি ব্যবহার করছে। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্ট তীব্র বিস্ফোরণ সরাসরি মুখ ও চোখে আঘাত হানছে।
হামিদিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৭ বছর বয়সী নেহা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমরা বাড়িতে বানানো কার্বাইড গান কিনেছিলাম। সেটা ফাটতেই আমার এক চোখ পুরোপুরি পুড়ে যায়। এখন আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।
এআই দিয়ে মুসলিমবিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে ভারতে!
আরেক আহত কিশোর রাজ বিশ্বকর্মা জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও দেখে সে নিজেই এমন একটি বন্দুক বানাতে চেয়েছিল এবং বিস্ফোরণের সময় সেটি তার মুখের ওপরেই ফেটে যায়।
এদিকে ভোপাল, ইন্দোর, জবলপুর ও গ্বালিয়রের বিভিন্ন হাসপাতালের চোখের ওয়ার্ডগুলো আহত শিশু রোগীতে ভরে গেছে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি কোনো খেলনা নয়, বরং একটি মারাত্মক বিস্ফোরক।
হামিদিয়া হাসপাতালের সিএমএইচও ডা. মানীশ শর্মা বলেন, বিস্ফোরণের সময় এতে ধাতব কণিকা ও কার্বাইডের বাষ্প বের হয়, যা সরাসরি রেটিনা পুড়িয়ে ফেলে। অনেকের চোখের আইরিস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বিদিশা জেলা, যেখানে সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি সত্ত্বেও স্থানীয় বাজারে এসব যন্ত্র প্রকাশ্যে বিক্রি হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত কর্মকর্তা আর কে মিশ্র জানিয়েছেন, যারা এই কার্বাইড গান বিক্রি বা প্রচার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনস্টাগ্রাম রিলস ও ইউটিউব শর্টস-এ ভাইরাল হওয়া ‘ফায়ারক্র্যাকার গান চ্যালেঞ্জ’ এই বিপজ্জনক প্রবণতার মূল কারণ হয়ে উঠেছে।


























