ইজিবাইক চালক ইব্রাহীম পাটোয়ারীকে হত্যার দায়ে দুই জনকে যাবজ্জীবন

চাঁদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫ ৮৯ বার পড়া হয়েছে
সময়ের সন্ধানে মিডিয়া লিঃ সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি:সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ইসলামাবাদ গ্রামে ইজিবাইক চালক ইব্রাহীম পাটোয়ারীকে হত্যার দায়ে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। 

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় আদালত অপর ধারায় আসামিদেরকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৪ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার দক্ষিণ ইসলামবাদ গ্রামের প্রধানিয়া বাড়ির মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. আরিফ হোসেন (৩৫) ও ইন্দুরিয়া ইসলামাবাদ গ্রামের প্রধানিয়া বাড়ির শহীদুল ইসলামের ছেলে মো. সবুজ (২৫)।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ইব্রাহীম পাটোয়ারী (২৮) উপজেলার দক্ষিণ ইসলামাবাদ গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির আবুল কাশেম পাটোয়ারীর ছেলে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, হত্যার শিকার ইব্রাহীম ও তার স্ত্রী নিলুফা বেগমের সঙ্গে পারিবারিক কলোহের কারণে বিরোধ ছিল। যার ফলে তিনি নিকটাত্মীয়র বাড়িতে চলে যান। এরই মধ্যে ইব্রাহিম নিজের দুটি ইজিবাইক ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিক্রি করেন। ঘটনার সময় ২০২০ সালের ৯ মার্চ রাতে ইব্রাহীম তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য আত্মীয় বাড়িতে যান। ওই বাড়ি থেকে ইব্রাহীমকে ফোন করে ডেকে নেন আসামি ইব্রাহীম ও সবুজ।

এরপর ১০ মার্চ রাতে আসামিরা ইব্রাহীমের সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ওই এলাকার জনৈক আব্দুল কাদিরের মাছ চাষের পুকুরে ফেলে যান। ১৩ মার্চ স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন পুকুরে মরদেহ ভেসে উঠেছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ইব্রাহীমের স্ত্রী নিলুফা বেগম তার স্বামীর মরদেহ শনাক্ত করেন।

এই ঘটনায় নিলুফা বেগম ১৩ মার্চ মতলব উত্তর থানায় আরিফ ও সবুজকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরর পর ১৫ মার্চ আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে থানা পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতলব উত্তর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম বলেন, মামলাটি পাঁচ বছরের অধিক সময় চলমান অবস্থায় আদালত ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ ও আসামিরা তাদের অপরাধ শিকার করায় বিচারক তাদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, মাসুম হোসেন ভূঁইয়া ও সেলিম মিয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইজিবাইক চালক ইব্রাহীম পাটোয়ারীকে হত্যার দায়ে দুই জনকে যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

ছবি:সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ইসলামাবাদ গ্রামে ইজিবাইক চালক ইব্রাহীম পাটোয়ারীকে হত্যার দায়ে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। 

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় আদালত অপর ধারায় আসামিদেরকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৪ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার দক্ষিণ ইসলামবাদ গ্রামের প্রধানিয়া বাড়ির মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. আরিফ হোসেন (৩৫) ও ইন্দুরিয়া ইসলামাবাদ গ্রামের প্রধানিয়া বাড়ির শহীদুল ইসলামের ছেলে মো. সবুজ (২৫)।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ইব্রাহীম পাটোয়ারী (২৮) উপজেলার দক্ষিণ ইসলামাবাদ গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির আবুল কাশেম পাটোয়ারীর ছেলে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, হত্যার শিকার ইব্রাহীম ও তার স্ত্রী নিলুফা বেগমের সঙ্গে পারিবারিক কলোহের কারণে বিরোধ ছিল। যার ফলে তিনি নিকটাত্মীয়র বাড়িতে চলে যান। এরই মধ্যে ইব্রাহিম নিজের দুটি ইজিবাইক ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিক্রি করেন। ঘটনার সময় ২০২০ সালের ৯ মার্চ রাতে ইব্রাহীম তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য আত্মীয় বাড়িতে যান। ওই বাড়ি থেকে ইব্রাহীমকে ফোন করে ডেকে নেন আসামি ইব্রাহীম ও সবুজ।

এরপর ১০ মার্চ রাতে আসামিরা ইব্রাহীমের সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ওই এলাকার জনৈক আব্দুল কাদিরের মাছ চাষের পুকুরে ফেলে যান। ১৩ মার্চ স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন পুকুরে মরদেহ ভেসে উঠেছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ইব্রাহীমের স্ত্রী নিলুফা বেগম তার স্বামীর মরদেহ শনাক্ত করেন।

এই ঘটনায় নিলুফা বেগম ১৩ মার্চ মতলব উত্তর থানায় আরিফ ও সবুজকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরর পর ১৫ মার্চ আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে থানা পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতলব উত্তর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম বলেন, মামলাটি পাঁচ বছরের অধিক সময় চলমান অবস্থায় আদালত ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ ও আসামিরা তাদের অপরাধ শিকার করায় বিচারক তাদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, মাসুম হোসেন ভূঁইয়া ও সেলিম মিয়া।