এবার বিক্ষোভে উত্তাল ইউরোপের আরেক দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫ ৯২ বার পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

সময়ের সন্ধানে মিডিয়া লিঃ সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি:সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনায় স্থবিরতা ও নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ ঘিরে এবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে জর্জিয়া। বিক্ষোভকালে রাজধানী তিবলিসিতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢোকার চেষ্টা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় পুলিশের সঙ্গে ভয়াবহ এক সংঘর্ষ হয় তাদের।

শনিবার (৪ অক্টোবর) বিক্ষোভ দমনে পেপার স্প্রে ও জলকামান নিক্ষেপ করেছে দাঙ্গা পুলিশ। খবর রয়টার্সের।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন জর্জিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে সব কেন্দ্রেই নিরঙ্কুশ জয় ঘোষণা করে দেশটির ক্ষমতাসীন দল জর্জিয়ান ড্রিম। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ায় বড় দুই বিরোধী দল। পরে তাদের ডাকেই রাজধানীতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে হাজারো জনতা।

মূলত, গত বছরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে শাসক দল জর্জিয়ান ড্রিম জয় দাবি করার পর থেকেই রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জর্জিয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থি বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে জয় পেয়েছে শাসকদল। এরপর থেকে ইইউ-তে যোগদানের আলোচনাও স্থগিত রেখেছে সরকার।

এমন অবস্থায় শনিবারের স্থানীয় নির্বাচন ছিল ক্ষমতাসীন জর্জিয়ান ড্রিমের জন্য কঠিন এক পরীক্ষা, যা এখন রূপ নিয়েছে ভয়াবহ বিক্ষোভে। বিরোধী দলগুলোর গণতন্ত্র বাঁচানোর ডাকে সাড়া দিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা। রাজধানী তিবলিসির রাস্তাগুলোতে জর্জিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা হাতে মিছিল করেন তারা। এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢোকার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করে পুলিশ। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পেপার স্প্রে ও জলকামান নিক্ষেপ করে তারা। এ সময় ভয়াবহ এক সংঘর্ষ হয় পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার। রাস্তা অবরোধের অভিযোগে শত শত বিক্ষোভকারীকে ৫ হাজার জর্জিয়ান লারি (প্রায় ১ হাজার ৮৩৫ ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে।

প্রকৃতপক্ষে গত কয়েক মাস ধরেই সরকারবিরোধী কর্মী, স্বাধীন গণমাধ্যম ও পশ্চিমাপন্থি রাজনৈতিক নেতাদের ওপর কঠোর দমননীতি প্রয়োগ করে আসছে জর্জিয়ার সরকার। অধিকাংশ বিরোধীদলীয় নেতা এখন কারাগারে।

কালো পোশাক, হেলমেট ও গ্যাসমাস্ক পরে শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দেন ২১ বছর বয়সী ইয়া নামের এক তরুণী। তিনি বলেন, রঙিন কিছু পরলে সহজেই আমাদের চেনা যাবে, আর চেনা গেলে জেলে যেতে হবে।

মূলত, সরকারি নজরদারির অংশ হিসেবে রুস্তাভেলি এভিনিউতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং এটাই বোঝাতে চাচ্ছিলেন তিনি।

ইয়া বলেন, আমি চাই জর্জিয়ান ড্রিম সরে যাক। আমরা দেশটাকে ফিরে পেতে চাই। আমার যেসব বন্ধুকে অবৈধভাবে জেলে রাখা হয়েছে, তারা যেন মুক্তি পায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এবার বিক্ষোভে উত্তাল ইউরোপের আরেক দেশ

আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

ছবি:সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনায় স্থবিরতা ও নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ ঘিরে এবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে জর্জিয়া। বিক্ষোভকালে রাজধানী তিবলিসিতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢোকার চেষ্টা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় পুলিশের সঙ্গে ভয়াবহ এক সংঘর্ষ হয় তাদের।

শনিবার (৪ অক্টোবর) বিক্ষোভ দমনে পেপার স্প্রে ও জলকামান নিক্ষেপ করেছে দাঙ্গা পুলিশ। খবর রয়টার্সের।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন জর্জিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে সব কেন্দ্রেই নিরঙ্কুশ জয় ঘোষণা করে দেশটির ক্ষমতাসীন দল জর্জিয়ান ড্রিম। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ায় বড় দুই বিরোধী দল। পরে তাদের ডাকেই রাজধানীতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে হাজারো জনতা।

মূলত, গত বছরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে শাসক দল জর্জিয়ান ড্রিম জয় দাবি করার পর থেকেই রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জর্জিয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থি বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে জয় পেয়েছে শাসকদল। এরপর থেকে ইইউ-তে যোগদানের আলোচনাও স্থগিত রেখেছে সরকার।

এমন অবস্থায় শনিবারের স্থানীয় নির্বাচন ছিল ক্ষমতাসীন জর্জিয়ান ড্রিমের জন্য কঠিন এক পরীক্ষা, যা এখন রূপ নিয়েছে ভয়াবহ বিক্ষোভে। বিরোধী দলগুলোর গণতন্ত্র বাঁচানোর ডাকে সাড়া দিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা। রাজধানী তিবলিসির রাস্তাগুলোতে জর্জিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা হাতে মিছিল করেন তারা। এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢোকার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করে পুলিশ। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পেপার স্প্রে ও জলকামান নিক্ষেপ করে তারা। এ সময় ভয়াবহ এক সংঘর্ষ হয় পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার। রাস্তা অবরোধের অভিযোগে শত শত বিক্ষোভকারীকে ৫ হাজার জর্জিয়ান লারি (প্রায় ১ হাজার ৮৩৫ ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে।

প্রকৃতপক্ষে গত কয়েক মাস ধরেই সরকারবিরোধী কর্মী, স্বাধীন গণমাধ্যম ও পশ্চিমাপন্থি রাজনৈতিক নেতাদের ওপর কঠোর দমননীতি প্রয়োগ করে আসছে জর্জিয়ার সরকার। অধিকাংশ বিরোধীদলীয় নেতা এখন কারাগারে।

কালো পোশাক, হেলমেট ও গ্যাসমাস্ক পরে শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দেন ২১ বছর বয়সী ইয়া নামের এক তরুণী। তিনি বলেন, রঙিন কিছু পরলে সহজেই আমাদের চেনা যাবে, আর চেনা গেলে জেলে যেতে হবে।

মূলত, সরকারি নজরদারির অংশ হিসেবে রুস্তাভেলি এভিনিউতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং এটাই বোঝাতে চাচ্ছিলেন তিনি।

ইয়া বলেন, আমি চাই জর্জিয়ান ড্রিম সরে যাক। আমরা দেশটাকে ফিরে পেতে চাই। আমার যেসব বন্ধুকে অবৈধভাবে জেলে রাখা হয়েছে, তারা যেন মুক্তি পায়।