রেলওয়ের জমি’তে চোখ পড়েছে সিটি করপোরেশনের
- আপডেট সময় : ০৮:৪৬:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৭৭ বার পড়া হয়েছে

ছবি:সংগৃহীত
ময়মনসিংহ নগরীর কেওটখালিতে খেলার মাঠে সিটি করপোরেশনের অটোরিকশার ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ রেলওয়ের বাধার মুখে হয়েছে স্থগিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাঠে কাজ করতে গেলে বা তাদের রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ শ্রমিকরা তাদের মালামাল ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়।
গত বুধবার সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কার্যাদেশ পায় বিসমিল্লাহ বিল্ডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ইমারজেন্সি ভিত্তিতে আমাকে কাজটি দেওয়া হয়েছে। এখন হঠাৎ করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। আরও দুই থেকে তিন দিন কাজ শুরু করতে গিয়েও করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত আমার ১৫-২০ হাজার টাকা নষ্ট হয়েছে।
ট্রেনে কাটা পড়ে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু
খেলার মাঠের বিষয়ে তিনি বলেন, সত্যি বলতে শহরে অনেক জায়গা থাকতে খেলার মাঠ বন্ধ করে ডাম্পিং স্টেশন তৈরি না করাই ভালো। কিছুদিন আগেও সার্কিট হাউজ মাঠের স্থাপনা ধরে নিয়ে বিশাল ঝামেলা তৈরি হয়েছিল। পরে সেই কাজটিও স্থগিত হয়েছে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চিফ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই মাঠটি রেলওয়ের সম্পত্তি। কিছুদিন আগে সিটি করপোরেশন এখানে কাজ করতে আসলে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীকে নিয়ে আমি জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাৎ করি। তিনি তখন আমাদেরকে জানান, রেলের সম্পত্তিতে রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কেউ কাজ করতে পারবে না।
রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান জানান, রেলওয়ের এই মাঠটি ঈদগাহ মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সিটি করপোরেশন এই মাঠে বাউন্ডারি দিয়ে অটোরিকশার ডাম্পিং স্টেশন করতে চায়। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা জমিটি মেপে সুস্পষ্টভাবে মালিকানা নির্ধারণ করে দেবেন। আশা করি, এরপর থেকে আর কোনো সমস্যা হবে না।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান উদ্দিন বলেন, আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে জেনে আসছি এই সম্পত্তিটির মালিক রেলওয়ে। এই এলাকায় খেলার কোনো মাঠ নেই। তাই ঈদগাহ মাঠটি আশপাশের সব এলাকার ছেলেরা খেলার মাঠে হিসেবে ব্যবহার করে। এ ছাড়াও আশপাশের এলাকায় যে কেউ মারা গেলে এই মাঠে জানাজা হয়। কদিন আগেও সিটি করপোরেশন এই মাঠটিতে ডাম্পিং স্টেশন করার চেষ্টা করেছিল। তখন আমরা বাধা দিয়েছি। তারা আবারও কাজ করার চেষ্টা করলে প্রয়োজনে আমরা রুখে দাঁড়াবো।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সচিব সুমনা আল মজিদ জানান, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক বলেছেন, এই সম্পত্তিটি ১/১ এর। জেলা প্রশাসনের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এই সম্পত্তিতে ডাম্পিং স্টেশন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম জানান, এটা জেলা প্রশাসনের সম্পত্তি। জেলা যানজট কমিটির সভার সিদ্ধান্তে এখানে ডাম্পিং স্টেশনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা দরকার।
এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার মহিউদ্দিন আরিফ বলেন, কেওটখালির এই মাঠটি রেলের সম্পত্তি। সিটি করপোরেশন কিছুদিন পরপর এখানে ডাম্পিং স্টেশন করতে চায়। তারা আমাদের কাছ থেকে কোন অনুমতি নেয়নি। আবার এই মাঠটি ঈদগা এবং খেলার মাঠ হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি এখন জেলা প্রশাসনের সম্পত্তি দাবি করাটা দুঃখজনক ব্যাপার।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি আমাদের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ দেখবে। আগামীকাল আমাদের প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠাবো। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে বিষয়টি শুরু হওয়ার জন্য আলোচনা করব।























