হাজি সেলিমের বাড়িতে গোপন কক্ষ, মিলল বিলাসবহুল ৬ গাড়ি
- আপডেট সময় : ১০:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২১ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার আজিমপুর দায়রা শরিফ এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে অভিযান শুরুর পর ওই বাসার আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং থেকে বিএমডব্লিউসহ ৬টি বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান সূত্র এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, হাজী সেলিমের ভবনটির আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ের একটি গোপন কক্ষের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখান থেকে ছয়টি বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভবনের ম্যানেজারকে আটক করা হয়েছে। অভিযান শেষে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানাবে যৌথ বাহিনী।
কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল খান বলেন, দুপুর থেকে সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। তারা বিষয়টি আমাদের জানিয়েছে।তবে সেখানে পুলিশের সদস্যরা নেই। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিততে যৌথ বাহিনীর সদস্যরাই অভিযান পরিচালনা করছেন।
ঢাকায় ৮৯ পূজামণ্ডপ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ: ডিএমপি কমিশনার
জানা গেছে, ‘গুলশানারা মাসুদা টাওয়ার’ নামের ওই বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং থেকে গাড়িগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে একটি গাড়িতে সংসদ সদস্যের লোগোও রয়েছে।
আরও জানা গেছে, ১২তলা বিশিষ্ট ভবনটির নিচতলায় বিশেষভাবে টিনশেড দিয়ে ঘেরা একটি আলাদা রুম তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে কয়েক কোটি টাকা দামের গাড়িগুলো লুকিয়ে রাখা হয়।
উদ্ধার হওয়া গাড়িগুলোর তালিকা সূত্রে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে— দুটি বিএমডব্লিউ, যার একটি সাদা ও অন্যটি লাল রঙের। এ ছাড়া একটি কালো রঙের নিশান পেট্রোল, একটি সাদা প্রোটন প্রাইভেটকার, একটি সাদা টয়োটা আইএসটি এবং একটি লাল রঙের টয়োটা রাস জিপ গাড়ি।
অভিযানের সময় গাড়িগুলোর কোনো বৈধ কাগজপত্র ভবনের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার দেখাতে পারেননি। এমনকি কেন আলাদা রুমে টিনশেড দিয়ে গাড়িগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়েও তিনি কোনো সঠিক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন।
যৌথ বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ অভিযান চালান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া এসব বিলাসবহুল গাড়ি সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা হাজী সেলিম ব্যবহার করতেন। তবে গাড়িগুলোর প্রকৃত মালিকানা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযান শেষে গাড়িগুলো জব্দ করা হয় এবং ভবনের ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজিমপুর আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।



























