হোয়াইট হাউসে দাওয়াত পেলেন শেহবাজ শরিফ, থাকতে পারেন আসিম মুনীরও
- আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১৮ বার পড়া হয়েছে

ছবি :সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই দেশটির সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিরাজ করছে পাকিস্তান সরকারের। বিশেষ করে চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত চলাকালে এবং এর পরবর্তী সময়ে বিষয়টি বেশ কয়েকবার স্পষ্ট হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিকবার সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনীর।
এ ধারাবাহিকতায় এবার নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকেও হোয়াইট হাউসে বৈঠকের জন্য দাওয়াত পেলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওভাল অফিসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। খবর জিও নিউজের।
পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কে বা কারা এ বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন, তা স্পষ্টভাবে জানানো না হয়নি পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে। তবে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনীর বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে নিরাপত্তা সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে শেহবাজ শরিফ এরই মধ্যে নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। বৈঠক শেষে তিনি আবার নিউ ইয়র্কে ফিরে এসে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
বৈঠকের নির্দিষ্ট এজেন্ডা প্রকাশ না করা হলেও ধারণা করা হচ্ছে, এটি সম্প্রতি হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত গাজা সংকট নিয়ে মুসলিম দেশের নেতাদের বৈঠকের ধারাবাহিকতা। সেই বৈঠকে পাকিস্তান ছাড়াও তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, ইউএই এবং জর্ডানের নেতারা অংশ নিয়েছিলেন।
এদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির বিপরীতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটছে ট্রাম্প প্রশাসনের। বিশেষ করে ভিসা সমস্যা, ভারতের পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক এবং মে মাসে ট্রাম্পের দাবি করা ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকে কেন্দ্র করে বেশ দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে গত ৩১ জুলাই একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে মার্কিন পক্ষ থেকে ১৯ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। অথচ, ভারতের সঙ্গে এখনো ট্রাম্প কোনো বাণিজ্য চুক্তি করতে পারেননি।
এর আগে, ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে তার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনীর। এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ—যেখানে কোনো উচ্চপর্যায়ের বেসামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকগুলো প্রমাণ করছে ওয়াশিংটন ইসলামাবাদকে আবার কৌশলগতভাবে মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরির চেষ্টা করছে।



























