আখক্ষেতে বিমান বিধ্বস্ত, যা জানা গেল
- আপডেট সময় : ০৭:১০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০০ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলে আখক্ষেতে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে একজন অস্ট্রেলীয় পাইলট নিহত হয়েছেন। বিধ্বস্ত বিমান থেকে প্রায় ২০০ কেজি স্পেসএক্স-ব্র্যান্ডেড মাদক কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে।
ব্রাজিলিয়ান পুলিশ আলাগোয়া অঞ্চলের উপকূলবর্তী কোরুরিপ এলাকায় একটি আখক্ষেতে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছে। সেখান থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে তারা। উদ্ধার হওয়া স্পেসএক্স-ব্র্যান্ডেড কোকেনের আনুমানিক মূল্য ৮০ মিলিয়ন ডলার।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে ফেডারেল পুলিশ, মাতো গ্রোসো সিভিল পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ব্রাজিলীয় কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনাটি তদন্ত করছে। এ দুর্ঘটনায় পাইলট টিমোথি জেমস ক্লার্ক আন্তর্জাতিক মাদকপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জি১ গ্লোবো জানিয়েছে, ফেডারেল পুলিশ বিমানের প্রস্থানস্থল বা গন্তব্য প্রকাশ করেনি। তবে বিমানটিতে অতিরিক্ত জ্বালানি ট্যাংক থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয়, এটি দূরপাল্লার যাত্রার অংশ ছিল।
এবার তুরস্কের শত্রু সাইপ্রাসকে ভয়ংকর অস্ত্র দিল ইসরায়েল
কোয়ান্টাস এয়ারলাইনসে দুই দশকেরও বেশি সময় বিমান চালনার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ক্লার্ক দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে একাই ছিলেন। গ্রামীণ এক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
বিমানটি জাম্বিয়াতে ব্রাজিলীয় মালিকের নামে নিবন্ধিত ছিল। তবে এটি অন্তত দুই বছর ধরে ব্রাজিলে পরিচালিত হয়ে আসছিল। বিমানটিতে মাদকের আধা প্রক্রিয়াজাত রূপ ১৮০ কেজি কোকেন পেস্ট বহন করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
বিমানটির ধ্বংসাবশেষ একটি বনভূমিতে পাওয়া গেছে এবং তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন, বিমানে ইঞ্জিন ত্রুটি দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সঠিক কারণ এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া কোনো বিপদসংকেত পাওয়া যায়নি এবং প্রত্যন্ত জায়গায় দুর্ঘটনা হওয়ায় প্রাথমিক উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, বিমানটি একটি মাদক চোরাচালান রুটের অংশ ছিল এবং কোকেনটি আন্তর্জাতিক বাজারে, সম্ভবত অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপে পৌঁছনোর উদ্দেশে ছিল।
উল্লেখ্য, ছোট পরিমাণে বিক্রি করলে এসব কোকেন অস্ট্রেলিয়ার বাজারে প্রায় ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের হতে পারে।
এদিকে পাইলটের বিষয়টি ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলছে। পরিচিতদের বর্ণনায় তিনি একজন অভিজ্ঞ বিমানচালক। তিনি আগে ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার জন্যও কাজ করেছেন। পাশাপাশি স্পেসএক্সের কন্ট্রাক্টরও ছিলেন। তার লিংকডইন প্রফাইলে করপোরেট জেট অপারেশন নিয়ে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তার দক্ষতার কথা উল্লেখ আছে। এমন উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার জড়িত থাকার খবর পরিচিতদের মধ্যেই বিস্ময় জাগিয়েছে। কারণ তার বিরুদ্ধে আগে কোনো জনস্বীকৃত অবৈধ কর্মকাণ্ডের রেকর্ড ছিল না। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কিভাবে তিনি এ অপারেশনে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
ব্রাজিলীয় পুলিশ বিমানটির মালিকানা ও এর সম্ভাব্য আঞ্চলিক মাদকচক্রগুলোর সঙ্গে সংযুক্তি খতিয়ে দেখছে। এসব চক্র মাতো গ্রোসোর প্রত্যন্ত বিমানঘাঁটিগুলো পাচারের জন্য ব্যবহার করার জন্য পরিচিত। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশও তদন্তে যুক্ত হয়েছে এবং তারা অস্ট্রেলিয়ার সংগঠিত অপরাধ নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে কি না তা উন্মোচনে কাজ করছে।
সূত্র: এনডিটিভি



























