হার্টের রোগী দেখার সময় নিজেই হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন চিকিৎসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫ ১৯৭ বার পড়া হয়েছে
সময়ের সন্ধানে মিডিয়া লিঃ সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি সংগৃহীত

হাসপাতালে ভর্তি হার্টের রোগীদের দেখতে রাউন্ড দিচ্ছিলেন চিকিৎসক। কিন্তু, ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! রোগী দেখতে দেখতে হার্ট অ্যাটাকেই মৃত্যু হলো তার। 

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে। মারা যাওয়া চিকিৎসকের নাম গ্র্যাডলিন রায়।

শনিবার (৩০ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৯ বছর বয়সী গ্র্যাডলিন রায় চেন্নাইয়ের সাভিথা মেডিকেল কলেজের কনসালট্যান্ট কার্ডিয়াক সার্জন ছিলেন। গত বুধবার এ হাসপাতালেই হার্ট অ্যাটাক করে পড়ে যান তিনি।

সুধীর কুমার নামে অপর এক চিকিৎসক জানান, তার সহকর্মীরা তাকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু, তার জ্ঞান আর ফেরানো সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, সিপিআর, স্টেন্টিংসহ জরুরি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, ইন্ট্রাঅর্টিক বেলুন পাম্প ও ইসিএম প্রয়োগ করা হয় গ্র্যাডলিন রায়ের ওপর। কিন্তু বাম পাশের প্রধান ধমনীতে ১০০ শতাংশ ব্লকেজ এবং বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাক হওয়ায় তারা কিছুই করতে পারেননি।

এ চিকিৎসকের মতে, গ্র্যাডলিন রায়ের মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী অনেক চিকিৎসকই হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক করছেন।

কারণ হিসেবে সুধীর কুমার বলেন, তরুণ চিকিৎসকদের দীর্ঘসময় কাজ করতে হয়। কেউ কেউ টানা ১২ থেকে ১৮ ঘন্টাও কাজ করেন। আবার অনেককে এক শিফটেই ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এছাড়া, তরুণ চিকিৎসকরা চাপের মধ্যেও থাকেন। সবসময় জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত, রোগীর চাপ এবং চিকিৎসা বিষয়ক কঠোর আইন তাদের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।

তাছাড়া, চিকিৎসক হলেও অনেকে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেন, ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করেন না, ব্যায়াম করেন না অথবা নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে উপেক্ষা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

হার্টের রোগী দেখার সময় নিজেই হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন চিকিৎসক

আপডেট সময় : ০৬:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

ছবি সংগৃহীত

হাসপাতালে ভর্তি হার্টের রোগীদের দেখতে রাউন্ড দিচ্ছিলেন চিকিৎসক। কিন্তু, ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! রোগী দেখতে দেখতে হার্ট অ্যাটাকেই মৃত্যু হলো তার। 

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে। মারা যাওয়া চিকিৎসকের নাম গ্র্যাডলিন রায়।

শনিবার (৩০ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৯ বছর বয়সী গ্র্যাডলিন রায় চেন্নাইয়ের সাভিথা মেডিকেল কলেজের কনসালট্যান্ট কার্ডিয়াক সার্জন ছিলেন। গত বুধবার এ হাসপাতালেই হার্ট অ্যাটাক করে পড়ে যান তিনি।

সুধীর কুমার নামে অপর এক চিকিৎসক জানান, তার সহকর্মীরা তাকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু, তার জ্ঞান আর ফেরানো সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, সিপিআর, স্টেন্টিংসহ জরুরি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, ইন্ট্রাঅর্টিক বেলুন পাম্প ও ইসিএম প্রয়োগ করা হয় গ্র্যাডলিন রায়ের ওপর। কিন্তু বাম পাশের প্রধান ধমনীতে ১০০ শতাংশ ব্লকেজ এবং বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাক হওয়ায় তারা কিছুই করতে পারেননি।

এ চিকিৎসকের মতে, গ্র্যাডলিন রায়ের মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী অনেক চিকিৎসকই হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক করছেন।

কারণ হিসেবে সুধীর কুমার বলেন, তরুণ চিকিৎসকদের দীর্ঘসময় কাজ করতে হয়। কেউ কেউ টানা ১২ থেকে ১৮ ঘন্টাও কাজ করেন। আবার অনেককে এক শিফটেই ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এছাড়া, তরুণ চিকিৎসকরা চাপের মধ্যেও থাকেন। সবসময় জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত, রোগীর চাপ এবং চিকিৎসা বিষয়ক কঠোর আইন তাদের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।

তাছাড়া, চিকিৎসক হলেও অনেকে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেন, ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করেন না, ব্যায়াম করেন না অথবা নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে উপেক্ষা করেন।