হঠাৎ গাড়ির ৮ যাত্রীর সাতজনই অচেতন, ঘটনা কী
- আপডেট সময় : ০৭:১৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫ ১২০ বার পড়া হয়েছে

ছবি : সংগৃহীত
পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুতে সিলেটের এক পরিবার শনিবার সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের রাঢ়ইল চৌধুরী বাড়িতে গিয়েছিল। ফেরার সময় একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস ভাড়া করেন তারা। দিরাই-কাঠইড় সড়কের গাজীনগর এলাকায় আসার পর হঠাৎ গাড়িতে থাকা আট যাত্রীর মধ্যে সাতজন অচেতন হয়ে পড়েন। এই সাতজনই ছিলেন নারী। তাদের সঙ্গে থাকা একমাত্র পুরুষ যাত্রী অসুস্থ হলেও চেতনা হারাননি, তাই বাকিদের রক্ষা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাদের উদ্ধার করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞান হওয়া যাত্রীদের মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটে পাঠানো হয়। এরপর বিকেল ৫টা নাগাদ আরও তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়। অচেতন হওয়ার পর থেকেই তাদের কারোরই কথা বলার মতো অবস্থা ছিল না।
হাছননগরের বাসিন্দা তুষার চৌধুরী জানান, পরিবারের সদস্য সালেহা চৌধুরী, তার মেয়ে রাইসা চৌধুরী ও সাইদা চৌধুরী, সিজ্জিল মিয়া চৌধুরীর মেয়ে নাদীয়া ও তানিশা, রাজ্জাক মিয়ার মেয়ে মহিমা এবং পরিবারের আরেক সদস্য শেফালী বেগম গাড়িতে ছিলেন। গাজীনগর এলাকায় পৌঁছানোর পর একমাত্র পুরুষ যাত্রী ছাড়া সবার শরীরে খিঁচুনি শুরু হয় এবং তারা জ্ঞান হারান। চালক গাড়ি থামালে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধারে সহায়তা করেন।
প্রাথমিকভাবে তাদের মাথায় পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় সিএনজিতে করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক সোহাগ জানান, সাতজন রোগী একই ধরনের অসুস্থতা নিয়ে জ্ঞান হারানো অবস্থায় এসেছিলেন। তিনি ধারণা করছেন, এটি গণহিস্টিরিয়া বা গণসাইকোজনিক অসুস্থতা হতে পারে। এ ছাড়া, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) গাড়িতে ক্ষতিকারক কিছু স্প্রে করা অথবা খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকেও এমনটা হতে পারে বলে জানান তিনি।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর শেফালী বেগম কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও অন্যদের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় স্বজনরা তাদের সিলেটে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।এ বিষয়ে হাইয়েস মাইক্রোবাসের চালক বাবুকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, পুলিশ এই ঘটনার খবর পেয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের অভিভাবক সিজ্জিল চৌধুরী তাদের চিকিৎসার খবর জানিয়েছেন।






















