আইনজীবী দেখা করতে গেলেই ‘ধর্ষণ’ করা হয় ফিলিস্তিনি পুরুষ বন্দিকে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৭:২৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫ ৯০ বার পড়া হয়েছে
সময়ের সন্ধানে মিডিয়া লিঃ সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ওপর যে ভয়াবহ নিপীড়ন প্রতিদিন চলে, তারই এক লোমহর্ষক বর্ণনা এবার উঠে এসেছে খোদ একজন ইসরায়েলি আইনজীবীর মুখে। বেন মারমারেলি নামে ওই ইসরায়েলি আইনজীবী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নিয়মিত যৌন সহিংসতা এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে তার ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দি ক্লায়েন্টকে।
তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে এ সাক্ষাৎকার।

আনাদোলু এজেন্সিকে বেন মারমারেলি বলেন, যখনই তিনি তার ক্লায়েন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান, তখনই ওই পুরুষ বন্দির ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। এতটাই ভয়ংকর পরিস্থিতি যে, তার ক্লায়েন্ট তাকে অনুরোধ করেছেন যেন তিনি আর তার কাছে না যান।

মারমারেলি জানিয়েছেন, ‘ধর্ষণই মূল সমস্যা নয়, বরং এটি ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর চালানো দীর্ঘমেয়াদী নির্যাতনের একটি অংশ মাত্র।’

তিনি আরও বলেন, ক্লায়েন্টের পিঠে বুটের আঘাতের দাগ, কবজিতে হাতকড়ার চিহ্ন এবং শরীরজুড়ে জখম দেখা গেছে। যৌন সহিংসতা সাধারণত কয়েক সপ্তাহে একবার ঘটে এবং তা সাক্ষাতের পরপরই হয়।

আইনজীবী উল্লেখ করেছেন, ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দীরা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বাইরের কেউ দেখতে পান না; আইনজীবীর সাক্ষাৎই তাদের একমাত্র সংযোগ।

মারমারেলি দক্ষিণ ইসরায়েলের কুখ্যাত সদে তেইমান সামরিক ঘাঁটির নির্যাতনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেখানে বন্দিদের ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং অমানবিক আচরণ করা হয় এবং সবকিছু ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়।

২০২৪ সালের আগস্টে ফাঁস হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনারা মুখ নিচের দিকে শোয়ানো এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন এবং পরে দাঙ্গা দমনের ঢাল দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করছেন।

ফাঁস হওয়া এ ফুটেজের দায় স্বীকার করে ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পদত্যাগ করেন ইসরায়েলি সামরিক প্রসিকিউটর ইফাত তোমার-ইয়েরুশালমি। তিনি স্বীকার করেন যে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রচার প্রতিহত করতে কিছু উপকরণ প্রকাশ করা হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আইনজীবী দেখা করতে গেলেই ‘ধর্ষণ’ করা হয় ফিলিস্তিনি পুরুষ বন্দিকে!

আপডেট সময় : ০৭:২৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ওপর যে ভয়াবহ নিপীড়ন প্রতিদিন চলে, তারই এক লোমহর্ষক বর্ণনা এবার উঠে এসেছে খোদ একজন ইসরায়েলি আইনজীবীর মুখে। বেন মারমারেলি নামে ওই ইসরায়েলি আইনজীবী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নিয়মিত যৌন সহিংসতা এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে তার ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দি ক্লায়েন্টকে।
তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে এ সাক্ষাৎকার।

আনাদোলু এজেন্সিকে বেন মারমারেলি বলেন, যখনই তিনি তার ক্লায়েন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান, তখনই ওই পুরুষ বন্দির ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। এতটাই ভয়ংকর পরিস্থিতি যে, তার ক্লায়েন্ট তাকে অনুরোধ করেছেন যেন তিনি আর তার কাছে না যান।

মারমারেলি জানিয়েছেন, ‘ধর্ষণই মূল সমস্যা নয়, বরং এটি ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর চালানো দীর্ঘমেয়াদী নির্যাতনের একটি অংশ মাত্র।’

তিনি আরও বলেন, ক্লায়েন্টের পিঠে বুটের আঘাতের দাগ, কবজিতে হাতকড়ার চিহ্ন এবং শরীরজুড়ে জখম দেখা গেছে। যৌন সহিংসতা সাধারণত কয়েক সপ্তাহে একবার ঘটে এবং তা সাক্ষাতের পরপরই হয়।

আইনজীবী উল্লেখ করেছেন, ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দীরা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বাইরের কেউ দেখতে পান না; আইনজীবীর সাক্ষাৎই তাদের একমাত্র সংযোগ।

মারমারেলি দক্ষিণ ইসরায়েলের কুখ্যাত সদে তেইমান সামরিক ঘাঁটির নির্যাতনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেখানে বন্দিদের ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং অমানবিক আচরণ করা হয় এবং সবকিছু ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়।

২০২৪ সালের আগস্টে ফাঁস হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনারা মুখ নিচের দিকে শোয়ানো এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন এবং পরে দাঙ্গা দমনের ঢাল দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করছেন।

ফাঁস হওয়া এ ফুটেজের দায় স্বীকার করে ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পদত্যাগ করেন ইসরায়েলি সামরিক প্রসিকিউটর ইফাত তোমার-ইয়েরুশালমি। তিনি স্বীকার করেন যে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রচার প্রতিহত করতে কিছু উপকরণ প্রকাশ করা হয়েছিল।