নিঃসন্তান দম্পতির কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৮:২৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ১১৩ বার পড়া হয়েছে
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

ছবি :সংগৃহীত
খুলনার পাইকগাছায় নিঃসন্তান এক ব্যবসায়ী দম্পতির দেখভালের নামে প্রায় কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই দম্পতির মৃত্যুর পর তাদের স্বজন সেজে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, দোকানঘর, আসবাবপত্র, এমনকি ব্যবসার হিসাবখাতাও হাতিয়ে নিয়েছেন অভিযুক্তরা। ওয়ারিশরা এখন সম্পদ উদ্ধারে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হিতামপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মেলেকপুরাইকাটি গ্রামের মৃত রাধাপদ সাধুর বড় ছেলে অরবিন্দ সাধু দেশ স্বাধীনতার আগেই কপিলমুনি বাজারে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। সেই সুবাদে বাজারের পেরিফেরি এলাকায় একটি দোকানঘর বরাদ্দ পান। পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে পড়লে দোকানটি দেবব্রত সাধু ও সুব্রত দাশ নামে দুই ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেন এবং বাড়িতে স্ত্রী গায়েত্রী সাধুকে নিয়ে পাইকারি কাপড়ের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
গত বছর অরবিন্দ সাধুর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী গায়েত্রী সাধু দোকান ভাড়া দিতে থাকেন ও নিজে কাপড়ের ব্যবসা চালাতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসময় গায়েত্রী সাধুর ছোট ভাই শ্রীবাস সাধু ও তার স্ত্রী সীমা সাধু ‘দেখভালের’ অজুহাতে গায়েত্রী সাধুর কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা, ৭ থেকে ৮ ভরি স্বর্ণ, জমির কাগজপত্র, ব্যবসার মালামাল ও হিসাবখাতা হাতিয়ে নেন। পরে শ্রীবাস তার ছেলে সুফল সাধুর নামে দোকানের একটি পজিশন লিখে নেন।
গত ২২ এপ্রিল গায়েত্রী সাধু ব্রেনস্ট্রোকে মারা যান। মৃত্যুর পর সীমা সাধু ও তার স্বামী বাড়ির স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, গরু ও অন্যান্য মালামাল নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পরিবারের।
অরবিন্দ সাধুর ভাই পঞ্চানন সাধু জানান, আমার বড় ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী নিঃসন্তান ছিলেন। তাদের মৃত্যুর পর আমার ভাবিকে দেখাশোনার সুযোগে শ্রীবাস ও সীমা সাধু কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন। দোকানের জমির দলিল, নগদ টাকা, স্বর্ণ—সব নিয়ে গেছেন তারা। আমরা সম্পদ উদ্ধারে ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেছি।
অন্য ভাই অচিন্ত সাধুও একই অভিযোগ করে বলেন, ছোট ভাই ও তার স্ত্রী সীমা সাধু আমার বোনের সব সম্পদ নিয়ে গেছে। স্বর্ণ, নগদ টাকা, দোকানের মাল—সবই তারা দখল করেছে।
গায়েত্রী সাধুর ভাতিজা উৎপল সাধু জানান, আমার কাকিমা অসুস্থ হওয়ার পর সীমা সাধু সুযোগ নেয়। চিকিৎসা ঠিকভাবে করেনি, বরং সম্পদ নিয়ে নিয়েছে। কাকিমা তার দুই বোনকে কিছু দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সীমা কিছুই দেয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সীমা রানী সাধু বলেন, আমি গায়েত্রী সাধুর জীবিত থাকা অবস্থায় তার দেখভাল করেছি। তিনি নিজেই আমার ছেলেকে দোকান লিখে দিয়েছেন এবং অন্য দোকানটি বিক্রি করেছেন। সেই বিক্রির টাকা ব্যাংকে জমা ছিল, যার নমিনি ছিল আমার ছেলে সুফল। সেখান থেকে চিকিৎসা ও শ্রাদ্ধশান্তির খরচ হয়েছে।
কপিলমুনি বাজার বণিক সমিতির সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে সালিশ চলছে। যাচাই শেষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী অরবিন্দ সাধু বাজারে সুনাম অর্জন করেছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারহীন সম্পদ নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে এখন সেই ব্যবসার উত্তরাধিকার প্রশ্নের মুখে।





















