ইসরায়েলের পরবর্তী টার্গেট কোন মুসলিম দেশ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৭:২২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪৮ বার পড়া হয়েছে
সময়ের সন্ধানে মিডিয়া লিঃ সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি:সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজায় ২৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে ভয়াবহ আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। হামাস উৎখাত ও জিম্মি মুক্তির নামে প্রতিদিনই অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার সেনারা। এছাড়া, প্রায়ই ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার শিকার হচ্ছে লেবানন, সিরিয়া আর ইয়েমেনও। এক কথায় গত দুই বছরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে ইসরায়েল। পুরো বিশ্ব তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালেও নেতানিয়াহু প্রশাসনকে আগ্রাসনমূলক এসব কর্মকাণ্ডে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

পরম বন্ধুর এমন সমর্থন পেয়ে যেন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দখলদার রাষ্ট্রটি। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সবশেষ ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়েছে কাতার ও তিউনিসিয়াও। বিশেষ করে কাতারে হামলার পর থেকেই ইসরায়েলকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে আরব রাষ্ট্রগুলো। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকেও ভরসা অনেকটা উঠে গেছে তাদের।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এমনই তথ্য উঠে এসেছে আল জাজিরার প্রতিবেদনে।

সে অনুযায়ী, মার্কিন মদদপুষ্ট বেপরোয়া ইসরায়েল যে এখন যেকোনো দেশকেই আক্রমণ করে বসতে পারে ইতোমধ্যে এমন ধারণার জন্ম হয়ে গেছে আরব বিশ্বের সদস্যদের মধ্যে। বিশেষত, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ উপসাগরীয় মিত্র কাতারে বিমান হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের দৃষ্টি ঘুরে গেছে তুরস্কের দিকে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে বিবেচিত এ দেশটির ওপর নজর রাখতে সম্প্রতি সাইপ্রাসকে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সরবরাহ করেছে ইসরায়েল।

এ নিয়ে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল রুবিন বলেন, এবার তুরস্ক হতে পারে দখলদার ইসরায়েলের পরবর্তী টার্গেট। এমনকি ন্যাটো সদস্যপদও হয়তো রক্ষা করতে পারবে না তুরস্ককে।

ইসরায়েলি অ্যাকাডেমিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেইর মাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, আজ কাতার, কাল তুরস্ক।

এছাড়া, বিগত কয়েক মাস ধরেই ইসরায়েলি মিডিয়াগুলোতে তুরস্ককে চিত্রিত করা হচ্ছে ‘ইসরায়েলের সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু’ হিসেবে। বিশেষ করে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের উপস্থিতি ও যুদ্ধ-পরবর্তী সিরিয়ায় দেশটির পুনর্গঠনে ভূমিকা—এ বিষয়গুলোকে ‘নতুন হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন ইসরায়েলি বিশ্লেষকরা।

এ অবস্থায় ইসরায়েলকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আঙ্কারায়। নেতানিয়াহুর উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এখন বেশ সতর্ক অবস্থানে তুরস্ক। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে হিটলারের আত্মীয় বলে আখ্যা দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তার এক উপদেষ্টা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যদি তুরস্কের ওপর হামলার চিন্তাও করে, তাহলে তাদের জন্য ভয়াবহ শাস্তি অপেক্ষা করছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের নন-রেসিডেন্ট ফেলো ওমর ওজকিজিলসিক আল জাজিরাকে বলেন, আঙ্কারায় ইসরায়েলের হুমকি হয়ে ওঠার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েল আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারে বদ্ধপরিকর। তুরস্ক বিশ্বাস করে, ইসরায়েল সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থন রয়েছে।

এছাড়া, কাতারে হামলার পর তুরস্কের মধ্যে আরেকটি শঙ্কা জন্মেছে; আর তা হলো— ন্যাটো জোটের প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর? কারণ, কাতার ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই’ হলেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

ওজকিজিলসিক বলেন, তুরস্ক বহু আগেই বুঝে গেছে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটোর ওপর নির্ভর করা যাবে না।

এদিকে সাবেক তুর্কি নৌ-অ্যাডমিরাল এবং ‘ব্লু হোমল্যান্ড’ কৌশলের রূপকার সেম গুরদেনিজ বলেন, তুরস্ক ও ইসরায়েলের প্রথম সংঘর্ষের ক্ষেত্র হতে পারে সিরিয়ার স্থল ও আকাশসীমা।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ছায়ায় গ্রিস, গ্রিক সাইপ্রাস ও ইসরায়েলের সমন্বয়ে সাইপ্রাসে যে সামরিক ও গোয়েন্দা ঘাঁটি শক্তিশালী হচ্ছে, তা তুরস্কের ব্লু হোমল্যান্ড নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

অবশ্য তুরস্কও তার সামুদ্রিক ও আঞ্চলিক কৌশল নিয়ে ইসরায়েলের আধিপত্যবাদকে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলের পরবর্তী টার্গেট কোন মুসলিম দেশ?

আপডেট সময় : ০৭:২২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ছবি:সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজায় ২৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে ভয়াবহ আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। হামাস উৎখাত ও জিম্মি মুক্তির নামে প্রতিদিনই অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার সেনারা। এছাড়া, প্রায়ই ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার শিকার হচ্ছে লেবানন, সিরিয়া আর ইয়েমেনও। এক কথায় গত দুই বছরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে ইসরায়েল। পুরো বিশ্ব তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালেও নেতানিয়াহু প্রশাসনকে আগ্রাসনমূলক এসব কর্মকাণ্ডে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

পরম বন্ধুর এমন সমর্থন পেয়ে যেন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দখলদার রাষ্ট্রটি। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সবশেষ ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়েছে কাতার ও তিউনিসিয়াও। বিশেষ করে কাতারে হামলার পর থেকেই ইসরায়েলকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে আরব রাষ্ট্রগুলো। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকেও ভরসা অনেকটা উঠে গেছে তাদের।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এমনই তথ্য উঠে এসেছে আল জাজিরার প্রতিবেদনে।

সে অনুযায়ী, মার্কিন মদদপুষ্ট বেপরোয়া ইসরায়েল যে এখন যেকোনো দেশকেই আক্রমণ করে বসতে পারে ইতোমধ্যে এমন ধারণার জন্ম হয়ে গেছে আরব বিশ্বের সদস্যদের মধ্যে। বিশেষত, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ উপসাগরীয় মিত্র কাতারে বিমান হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের দৃষ্টি ঘুরে গেছে তুরস্কের দিকে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে বিবেচিত এ দেশটির ওপর নজর রাখতে সম্প্রতি সাইপ্রাসকে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সরবরাহ করেছে ইসরায়েল।

এ নিয়ে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল রুবিন বলেন, এবার তুরস্ক হতে পারে দখলদার ইসরায়েলের পরবর্তী টার্গেট। এমনকি ন্যাটো সদস্যপদও হয়তো রক্ষা করতে পারবে না তুরস্ককে।

ইসরায়েলি অ্যাকাডেমিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেইর মাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, আজ কাতার, কাল তুরস্ক।

এছাড়া, বিগত কয়েক মাস ধরেই ইসরায়েলি মিডিয়াগুলোতে তুরস্ককে চিত্রিত করা হচ্ছে ‘ইসরায়েলের সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু’ হিসেবে। বিশেষ করে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের উপস্থিতি ও যুদ্ধ-পরবর্তী সিরিয়ায় দেশটির পুনর্গঠনে ভূমিকা—এ বিষয়গুলোকে ‘নতুন হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন ইসরায়েলি বিশ্লেষকরা।

এ অবস্থায় ইসরায়েলকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আঙ্কারায়। নেতানিয়াহুর উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এখন বেশ সতর্ক অবস্থানে তুরস্ক। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে হিটলারের আত্মীয় বলে আখ্যা দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তার এক উপদেষ্টা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যদি তুরস্কের ওপর হামলার চিন্তাও করে, তাহলে তাদের জন্য ভয়াবহ শাস্তি অপেক্ষা করছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের নন-রেসিডেন্ট ফেলো ওমর ওজকিজিলসিক আল জাজিরাকে বলেন, আঙ্কারায় ইসরায়েলের হুমকি হয়ে ওঠার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েল আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারে বদ্ধপরিকর। তুরস্ক বিশ্বাস করে, ইসরায়েল সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থন রয়েছে।

এছাড়া, কাতারে হামলার পর তুরস্কের মধ্যে আরেকটি শঙ্কা জন্মেছে; আর তা হলো— ন্যাটো জোটের প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর? কারণ, কাতার ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই’ হলেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

ওজকিজিলসিক বলেন, তুরস্ক বহু আগেই বুঝে গেছে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটোর ওপর নির্ভর করা যাবে না।

এদিকে সাবেক তুর্কি নৌ-অ্যাডমিরাল এবং ‘ব্লু হোমল্যান্ড’ কৌশলের রূপকার সেম গুরদেনিজ বলেন, তুরস্ক ও ইসরায়েলের প্রথম সংঘর্ষের ক্ষেত্র হতে পারে সিরিয়ার স্থল ও আকাশসীমা।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ছায়ায় গ্রিস, গ্রিক সাইপ্রাস ও ইসরায়েলের সমন্বয়ে সাইপ্রাসে যে সামরিক ও গোয়েন্দা ঘাঁটি শক্তিশালী হচ্ছে, তা তুরস্কের ব্লু হোমল্যান্ড নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

অবশ্য তুরস্কও তার সামুদ্রিক ও আঞ্চলিক কৌশল নিয়ে ইসরায়েলের আধিপত্যবাদকে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।