মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪ মাজারে হামলা-অগ্নিসংযোগ

কুমিল্লা প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০৩ বার পড়া হয়েছে
সময়ের সন্ধানে মিডিয়া লিঃ সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি:সংগৃহীত

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় চারটি মাজারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ সময় একটি মাজার সংলগ্ন তিনটি ঘরেও আগুন দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিয়ে উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের আসাদপুর গ্রামে এই হামলা হয় বলে হোমনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মো. মহসীন (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার ফকিরবাড়ির আলেক শাহর ছেলে।

জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টার দিকে ‘বেমজা মহসিন’ নামের একটি আইডি থেকে মহানবি হযরত মুহাম্মদকে (সা.) কটূক্তি করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এতে এলাকাবাসীর ক্ষোভের ‍মুখে পুলিশ মহসিনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

ওই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ইসলামী যুব সেনা হোমনা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম মহসীনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হোমনা থানায় মামলা করেন।

পরেরদিন সকালে উত্তেজিত জনতা জড়ো হন। এ সময় হাত মাইকে মাজার ও বাড়িতে হামলার ঘোষণা দেন। তারা প্রথমে মহসিনের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। পরে সেখানে থাকা কফিল উদ্দিন শাহর মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সবশেষ মাজারের চত্বরে থাকা তিনটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে হামলাকারীরা। এতে সেখানে থাকা একটি মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

এরপর হামলাকারীরা মিছিল নিয়ে গ্রামের আবদু শাহর মাজার, কালাই (কানু) শাহর মাজার এবং হাওয়ালি শাহর মাজারে ভাঙচুর করে। হাওয়ালি শাহর মাজার চত্বরেও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খাঁন ও হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে তারা জানান, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মহসীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে পাঠিয়ে তার রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারো ইন্ধন আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪ মাজারে হামলা-অগ্নিসংযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ছবি:সংগৃহীত

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় চারটি মাজারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ সময় একটি মাজার সংলগ্ন তিনটি ঘরেও আগুন দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিয়ে উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের আসাদপুর গ্রামে এই হামলা হয় বলে হোমনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মো. মহসীন (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার ফকিরবাড়ির আলেক শাহর ছেলে।

জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টার দিকে ‘বেমজা মহসিন’ নামের একটি আইডি থেকে মহানবি হযরত মুহাম্মদকে (সা.) কটূক্তি করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এতে এলাকাবাসীর ক্ষোভের ‍মুখে পুলিশ মহসিনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

ওই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ইসলামী যুব সেনা হোমনা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম মহসীনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হোমনা থানায় মামলা করেন।

পরেরদিন সকালে উত্তেজিত জনতা জড়ো হন। এ সময় হাত মাইকে মাজার ও বাড়িতে হামলার ঘোষণা দেন। তারা প্রথমে মহসিনের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। পরে সেখানে থাকা কফিল উদ্দিন শাহর মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সবশেষ মাজারের চত্বরে থাকা তিনটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে হামলাকারীরা। এতে সেখানে থাকা একটি মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

এরপর হামলাকারীরা মিছিল নিয়ে গ্রামের আবদু শাহর মাজার, কালাই (কানু) শাহর মাজার এবং হাওয়ালি শাহর মাজারে ভাঙচুর করে। হাওয়ালি শাহর মাজার চত্বরেও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খাঁন ও হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে তারা জানান, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মহসীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে পাঠিয়ে তার রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারো ইন্ধন আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।