এবার তুরস্কের শত্রু সাইপ্রাসকে ভয়ংকর অস্ত্র দিল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৮:২৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে
সময়ের সন্ধানে মিডিয়া লিঃ সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের সঙ্গে ইসরাইলের উত্তেজনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এই উত্তেজনার মধ্যে সাইপ্রাসে গত সপ্তাহে উন্নতমানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করেছে ইসরায়েল। গত ডিসেম্বর থেকে এ ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার তিনটি চালান সরবরাহ করা হয়েছে বলে মিডল ইস্ট আইর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তুরস্কের ওপর নজর রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভূমধ্যসাগরের দ্বীপদেশটিকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদন মতে, সবশেষ গত সপ্তাহে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করে ইসরাইল। যা ছিল গত ডিসেম্বর থেকে এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৃতীয় চালান।

মিডল ইস্ট আইর প্রতিবেদন মতে, গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, সাইপ্রাসের দক্ষিণ উপকূলের লিমাসল বন্দর দিয়ে ট্রাকে করে ‘বারাক এমএক্স’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সাইপ্রাসের সংবাদমাধ্যম রিপোর্টার জানিয়েছে, বারাক এমএক্স ব্যবস্থার সরবরাহ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি বছরই এগুলো সক্রিয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে রাশিয়ার এস-৩০০ থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর বলে দাবি করা হয়। এর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ১৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

বারাক এমএক্স আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে ইসরাইলি সংস্থা ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই)। চলতি বছরের জুলাইয়ে সংস্থাটির বহিঃসম্পর্ক বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট শাই গাল এক নিবন্ধে লেখেন, ইসরাইলের উচিত সাইপ্রাস নীতি পুনর্বিবেচনা করা এবং সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করা; যাতে এ দ্বীপের উত্তরাঞ্চলকে তুর্কি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করা যায়।

শাই গাল আরও লেখেন, ইসরাইলকে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্বীপের উত্তর অংশ মুক্ত করার বিকল্প পরিকল্পনা করতে হবে। এতে তুরস্কের পুনরায় সেনা পাঠানোর পথ বন্ধ হবে, উত্তর সাইপ্রাসের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হবে, গোয়েন্দা ও কমান্ড সেন্টারগুলো গুঁড়িয়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত তুর্কি বাহিনী সরে যাবে। এর মাধ্যমে সাইপ্রাসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

গ্রিসের সঙ্গে একীভূত করার লক্ষ্য নিয়ে সাইপ্রাসে এক অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে সেখানে আক্রমণ চালায় তুরস্ক। সেই থেকে দ্বীপটি দুই ভাগে বিভক্ত—দক্ষিণে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র ও উত্তরে তুরস্ক-সমর্থিত উত্তর সাইপ্রাস, যা শুধু আঙ্কারা স্বীকৃত।

শাই গালের আহ্বানের পরই সাইপ্রাসে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়টি সামনে এলো। তবে আঙ্কারা এখন পর্যন্ত নতুন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। বারাক এমএক্সে রয়েছে উন্নত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা। এর থ্রিডি রাডার সর্বোচ্চ ৪৬০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত কার্যকর, যা দক্ষিণ তুরস্কের একটি বড় অংশের আকাশসীমা আয়ত্তে আনতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এবার তুরস্কের শত্রু সাইপ্রাসকে ভয়ংকর অস্ত্র দিল ইসরায়েল

আপডেট সময় : ০৮:২৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের সঙ্গে ইসরাইলের উত্তেজনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এই উত্তেজনার মধ্যে সাইপ্রাসে গত সপ্তাহে উন্নতমানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করেছে ইসরায়েল। গত ডিসেম্বর থেকে এ ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার তিনটি চালান সরবরাহ করা হয়েছে বলে মিডল ইস্ট আইর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তুরস্কের ওপর নজর রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভূমধ্যসাগরের দ্বীপদেশটিকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদন মতে, সবশেষ গত সপ্তাহে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করে ইসরাইল। যা ছিল গত ডিসেম্বর থেকে এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৃতীয় চালান।

মিডল ইস্ট আইর প্রতিবেদন মতে, গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, সাইপ্রাসের দক্ষিণ উপকূলের লিমাসল বন্দর দিয়ে ট্রাকে করে ‘বারাক এমএক্স’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সাইপ্রাসের সংবাদমাধ্যম রিপোর্টার জানিয়েছে, বারাক এমএক্স ব্যবস্থার সরবরাহ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি বছরই এগুলো সক্রিয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে রাশিয়ার এস-৩০০ থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর বলে দাবি করা হয়। এর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ১৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

বারাক এমএক্স আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে ইসরাইলি সংস্থা ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই)। চলতি বছরের জুলাইয়ে সংস্থাটির বহিঃসম্পর্ক বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট শাই গাল এক নিবন্ধে লেখেন, ইসরাইলের উচিত সাইপ্রাস নীতি পুনর্বিবেচনা করা এবং সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করা; যাতে এ দ্বীপের উত্তরাঞ্চলকে তুর্কি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করা যায়।

শাই গাল আরও লেখেন, ইসরাইলকে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্বীপের উত্তর অংশ মুক্ত করার বিকল্প পরিকল্পনা করতে হবে। এতে তুরস্কের পুনরায় সেনা পাঠানোর পথ বন্ধ হবে, উত্তর সাইপ্রাসের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হবে, গোয়েন্দা ও কমান্ড সেন্টারগুলো গুঁড়িয়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত তুর্কি বাহিনী সরে যাবে। এর মাধ্যমে সাইপ্রাসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

গ্রিসের সঙ্গে একীভূত করার লক্ষ্য নিয়ে সাইপ্রাসে এক অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে সেখানে আক্রমণ চালায় তুরস্ক। সেই থেকে দ্বীপটি দুই ভাগে বিভক্ত—দক্ষিণে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র ও উত্তরে তুরস্ক-সমর্থিত উত্তর সাইপ্রাস, যা শুধু আঙ্কারা স্বীকৃত।

শাই গালের আহ্বানের পরই সাইপ্রাসে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়টি সামনে এলো। তবে আঙ্কারা এখন পর্যন্ত নতুন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। বারাক এমএক্সে রয়েছে উন্নত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা। এর থ্রিডি রাডার সর্বোচ্চ ৪৬০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত কার্যকর, যা দক্ষিণ তুরস্কের একটি বড় অংশের আকাশসীমা আয়ত্তে আনতে পারে।