আমি নিজেও বাধ্য হয়ে একসময় ঘুষ দিয়েছি: অর্থ উপদেষ্টা

সময়ের সন্ধানে ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১৭ বার পড়া হয়েছে
সময়ের সন্ধানে মিডিয়া লিঃ সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি:সংগৃহীত

উপদেষ্টা হওয়ার আগে একসময় বাধ্য হয়ে ঘুষ দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব ভবনে ‘ট্যাক্স রিপ্রেজেন্টেটিভ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (টিআইএমএস)’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি নিজেও একসময় নিরুপায় হয়ে ঘুষ দিয়েছি, যাতে কাজটি সময়মতো হয়। বলেছি, এটা চা-নাশতার টাকা। মানুষ এসব দুর্নীতি থেকে মুক্তি চায়। আপনারা মানুষকে সেবা দিন। মানুষ ভালো সেবা পেলে সেবার মূল্য দিতেও কৃপণতা করবে না।’

আইটি খাতে বিদেশ নির্ভরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকে ডেভেলপমেন্টের নামে বিদেশি হার্ডওয়্যারের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। এতে খরচও বাড়ে। বিদেশি কনসালটেন্টরা অনেক সময় কাজের চেয়ে বেশি কথা বলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভালো কাজ করলেও, অনেক সময় এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকে।’

আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাড়তি অর্থ আদায়ের জন্য ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কাজ করার কোনো মানে নেই। সরাসরি ভালোভাবে কাজ করলে মানুষ স্বচ্ছন্দে একই অর্থ দেবে। ভালো সেবা দিলে মানুষ তার মূল্য দিতে আপত্তি করে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিনা পারিশ্রমিকে কর রিটার্ন দেওয়ার কথা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব নয়। বরং নির্ভরযোগ্য সেবা দিয়ে উপযুক্ত পারিশ্রমিক নেওয়া উচিত। আয়কর রিটার্ন পদ্ধতিকে এনবিআর অটোমেট করেছে। আয়কর আইনজীবীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। এতে রাজস্ব আদায় আরও গতিশীল হবে। অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম ব্যক্তি এবং রাষ্ট্র—উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক।

সরকারি কর্মকাণ্ডে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান সরকার মানুষের জন্য কিছু করে যেতে চাচ্ছে। যদিও এটা অন্তর্বর্তী সরকার, তবুও আমরা যে উদ্যোগ নিচ্ছি, তা ভবিষ্যৎ সরকারের জন্যও সহায়ক হবে। যারা বাইরে থেকে কিছুই দেখছেন না, তাদের হতাশ না হয়ে ইতিবাচকভাবে দেখার অনুরোধ করছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আমি নিজেও বাধ্য হয়ে একসময় ঘুষ দিয়েছি: অর্থ উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৯:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ছবি:সংগৃহীত

উপদেষ্টা হওয়ার আগে একসময় বাধ্য হয়ে ঘুষ দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব ভবনে ‘ট্যাক্স রিপ্রেজেন্টেটিভ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (টিআইএমএস)’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি নিজেও একসময় নিরুপায় হয়ে ঘুষ দিয়েছি, যাতে কাজটি সময়মতো হয়। বলেছি, এটা চা-নাশতার টাকা। মানুষ এসব দুর্নীতি থেকে মুক্তি চায়। আপনারা মানুষকে সেবা দিন। মানুষ ভালো সেবা পেলে সেবার মূল্য দিতেও কৃপণতা করবে না।’

আইটি খাতে বিদেশ নির্ভরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকে ডেভেলপমেন্টের নামে বিদেশি হার্ডওয়্যারের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। এতে খরচও বাড়ে। বিদেশি কনসালটেন্টরা অনেক সময় কাজের চেয়ে বেশি কথা বলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভালো কাজ করলেও, অনেক সময় এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকে।’

আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাড়তি অর্থ আদায়ের জন্য ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কাজ করার কোনো মানে নেই। সরাসরি ভালোভাবে কাজ করলে মানুষ স্বচ্ছন্দে একই অর্থ দেবে। ভালো সেবা দিলে মানুষ তার মূল্য দিতে আপত্তি করে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিনা পারিশ্রমিকে কর রিটার্ন দেওয়ার কথা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব নয়। বরং নির্ভরযোগ্য সেবা দিয়ে উপযুক্ত পারিশ্রমিক নেওয়া উচিত। আয়কর রিটার্ন পদ্ধতিকে এনবিআর অটোমেট করেছে। আয়কর আইনজীবীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। এতে রাজস্ব আদায় আরও গতিশীল হবে। অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম ব্যক্তি এবং রাষ্ট্র—উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক।

সরকারি কর্মকাণ্ডে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান সরকার মানুষের জন্য কিছু করে যেতে চাচ্ছে। যদিও এটা অন্তর্বর্তী সরকার, তবুও আমরা যে উদ্যোগ নিচ্ছি, তা ভবিষ্যৎ সরকারের জন্যও সহায়ক হবে। যারা বাইরে থেকে কিছুই দেখছেন না, তাদের হতাশ না হয়ে ইতিবাচকভাবে দেখার অনুরোধ করছি।’