ভ্যান চোরকে ছেড়ে দিলো পুলিশ, চোরের বাড়ি ঘেরাও 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৭:২৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬২ বার পড়া হয়েছে
সময়ের সন্ধানে মিডিয়া লিঃ সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ভ্যানসহ তিন চোরকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার পর তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষুব্ধ ভ্যানচালক ও স্থানীয়রা বুধবার এক চোরের বাড়ি ঘেরাও করে প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ওসি খোন্দকার জিয়াউর রহমান।

ঘটনাটি ঘটে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বহলবাড়িয়া গ্রামে। সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শতাধিক ভ্যানচালক ও তাদের স্বজনরা অভিযুক্ত আসাদুল ইসলামের বাড়ি ঘিরে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পান্টি এলাকা থেকে একটি মোটরভ্যান চুরি করেন বহলবাড়িয়ার হৃদয় হোসেন (১৮), আসাদুল ইসলাম (১৯) ও রাকিবুল ইসলাম (২০)। স্থানীয়রা টের পেয়ে ধাওয়া করে তাদেরকে মাদুলিয়া ব্রিজ এলাকায় ধরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। পরে বাঁধবাজার পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ভ্যানসহ থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নিয়েই তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

চোর ধরা ও মারধরের ঘটনাটি রাতেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বুধবার সকাল থেকে শত শত ভ্যানচালক ও স্বজনরা আসাদের বাড়ি ঘেরাও করে ভ্যান উদ্ধারের দাবি জানান। তবে অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এলাকায় প্রতিদিনই ভ্যান চুরি হচ্ছে। থানায় অভিযোগ করেও চোর ধরা বা ভ্যান ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা নেই। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

যদুবয়রা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বিশ্বনাথ মণ্ডল বলেন, চোরের বাড়িতে লোকজন ভিড় করেছিল। আমরা গিয়ে তাদের বুঝিয়ে ফেরত পাঠিয়েছি।

বাঁধবাজার পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মোহাম্মদ আলী বলেন, স্থানীয় লোকজন তিনজনকে ভ্যানসহ আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু কেউ মামলা বা অভিযোগ দায়ের না করায় স্থানীয় মেম্বারের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি খোন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, চুরির ঘটনায় ভ্যানচালকরা এক চোরের বাড়ি ঘেরাও করেছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে পুলিশ তিন চোরকে ছেড়ে দিয়েছে—এমন কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভ্যান চোরকে ছেড়ে দিলো পুলিশ, চোরের বাড়ি ঘেরাও 

আপডেট সময় : ০৭:২৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ভ্যানসহ তিন চোরকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার পর তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষুব্ধ ভ্যানচালক ও স্থানীয়রা বুধবার এক চোরের বাড়ি ঘেরাও করে প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ওসি খোন্দকার জিয়াউর রহমান।

ঘটনাটি ঘটে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বহলবাড়িয়া গ্রামে। সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শতাধিক ভ্যানচালক ও তাদের স্বজনরা অভিযুক্ত আসাদুল ইসলামের বাড়ি ঘিরে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পান্টি এলাকা থেকে একটি মোটরভ্যান চুরি করেন বহলবাড়িয়ার হৃদয় হোসেন (১৮), আসাদুল ইসলাম (১৯) ও রাকিবুল ইসলাম (২০)। স্থানীয়রা টের পেয়ে ধাওয়া করে তাদেরকে মাদুলিয়া ব্রিজ এলাকায় ধরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। পরে বাঁধবাজার পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ভ্যানসহ থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নিয়েই তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

চোর ধরা ও মারধরের ঘটনাটি রাতেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বুধবার সকাল থেকে শত শত ভ্যানচালক ও স্বজনরা আসাদের বাড়ি ঘেরাও করে ভ্যান উদ্ধারের দাবি জানান। তবে অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এলাকায় প্রতিদিনই ভ্যান চুরি হচ্ছে। থানায় অভিযোগ করেও চোর ধরা বা ভ্যান ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা নেই। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

যদুবয়রা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বিশ্বনাথ মণ্ডল বলেন, চোরের বাড়িতে লোকজন ভিড় করেছিল। আমরা গিয়ে তাদের বুঝিয়ে ফেরত পাঠিয়েছি।

বাঁধবাজার পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মোহাম্মদ আলী বলেন, স্থানীয় লোকজন তিনজনকে ভ্যানসহ আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু কেউ মামলা বা অভিযোগ দায়ের না করায় স্থানীয় মেম্বারের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি খোন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, চুরির ঘটনায় ভ্যানচালকরা এক চোরের বাড়ি ঘেরাও করেছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে পুলিশ তিন চোরকে ছেড়ে দিয়েছে—এমন কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি।