ভারতে পিঠে ফোন ঠেকিয়ে বাংলাদেশিদের খুঁজছে পুলিশ, ঘটনা কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১০৯ বার পড়া হয়েছে
সময়ের সন্ধানে মিডিয়া লিঃ সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি:সংগৃহীত

ভারতে পিঠে ফোন ঠেকিয়ে বাংলাদেশিদের খুঁজছে পুলিশ, বিরক্ত স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত
পিঠে ফোন ঠেকিয়ে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে ভারতের বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশের পুলিশ। ‘যোগী রাজ্যে’ বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতীয়দের হেনস্তার এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

ভিডিওতে দেখা গেছে, উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বি থানার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর অজয় শর্মা এক বাসিন্দার পিঠে একটি মেশিন ধরছেন। তার দাবি এটি ‘নাগরিকত্ব নির্ধারণ’ করতে সক্ষম। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি বাংলাদেশের লোক নও তো?’

জাবাবে বাসিন্দা বলেন, তিনি বাংলাদেশি নন। বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, ‘মেশিন তো বাংলাদেশি দেখাচ্ছে।’ ভিডিওতে পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘মিথ্যা বলো না; আমাদের কাছে মেশিন আছে যা দিয়ে মিথ্যা ধরা যায়।’

থার্টি ফার্স্টের রাতে পরকীয়া প্রেমিককে ডেকে নিয়ে স্পর্শকাতর অঙ্গ কর্তন
উত্তর প্রদেশ পুলিশের এই অদ্ভুত কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামনে আসতেই নাগরিক হেনস্তা ইস্যুতে ভারতজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় গাজিয়াবাদ পুলিশ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই পরিবারটি আদতে বিহারের আরারিয়ার বাসিন্দা। ২২ বছর বয়সি এক তরুণী এবং তার বাবা ৭৬ বছর বয়সি মহম্মদ সিদ্দিক বারবার দাবি করেন যে তারা ভারতীয়। মোবাইলে নিজেদের নথিপত্রও দেখান তারা। কিন্তু উপস্থিত পুলিশ কর্মীরা তাতে কর্ণপাত করেননি বলেই অভিযোগ।

পেশায় মাছ বিক্রেতা সিদ্দিক জানান, ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি গাজিয়াবাদে বসবাস করছেন, তবুও তাদের বাংলাদেশি বলে ভয় দেখানো হয়েছে।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গাজিয়াবাদ পুলিশ জানায়, ওই ভিডিও-র ঘটনা ঘটেছে গত ২৩ ডিসেম্বর। রোহিঙ্গা ও অবৈধ বাংলাদেশিদের পাকড়াও করতে ভোয়াপুর বস্তিতে ওই দিন অভিযান চালায় পুলিশ, আরআরএফ ও সিআরপিএফ। সে অভিযানের সময় বস্তির বাসিন্দাদের আধার কার্ড পরীক্ষা করা হয়।

উত্তর প্রদেশ পুলিশের ডিসিপি নিমিশ পাতিল জানান, রুটিন তল্লাশির সময় ওই ভিডিওটি ধারণ করা হয়। তবে ভিডিওর সত্যতা এবং পুলিশের আচরণের ধরণ খতিয়ে দেখতে ইন্দিরাপুরম সার্কেলের এসিপিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সাধারণত সংবেদনশীল এলাকায় অপরাধ রুখতে এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ এই ধরনের মহড়া চালায়।

প্রসঙ্গত, গত বছরের শেষ কয়েক মাসে শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে হেনস্তার শিকার হয়েছেন অনেক ভারতীয়। সম্প্রতি বাংলা ভাষাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর ওড়িশায় অমানবিক অত্যাচারের ঘটনা সামনে আসে।

দিন কয়েক আগেই প্রাণ বাঁচাতে জঙ্গলে আশ্রয় নিতে হয় পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার এক পরিযায়ী শ্রমিককে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে হামলার ঘটনার প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের সাবেক সংসদ সদস্য কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতে পিঠে ফোন ঠেকিয়ে বাংলাদেশিদের খুঁজছে পুলিশ, ঘটনা কী

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

ছবি:সংগৃহীত

ভারতে পিঠে ফোন ঠেকিয়ে বাংলাদেশিদের খুঁজছে পুলিশ, বিরক্ত স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত
পিঠে ফোন ঠেকিয়ে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে ভারতের বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশের পুলিশ। ‘যোগী রাজ্যে’ বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতীয়দের হেনস্তার এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

ভিডিওতে দেখা গেছে, উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বি থানার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর অজয় শর্মা এক বাসিন্দার পিঠে একটি মেশিন ধরছেন। তার দাবি এটি ‘নাগরিকত্ব নির্ধারণ’ করতে সক্ষম। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি বাংলাদেশের লোক নও তো?’

জাবাবে বাসিন্দা বলেন, তিনি বাংলাদেশি নন। বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, ‘মেশিন তো বাংলাদেশি দেখাচ্ছে।’ ভিডিওতে পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘মিথ্যা বলো না; আমাদের কাছে মেশিন আছে যা দিয়ে মিথ্যা ধরা যায়।’

থার্টি ফার্স্টের রাতে পরকীয়া প্রেমিককে ডেকে নিয়ে স্পর্শকাতর অঙ্গ কর্তন
উত্তর প্রদেশ পুলিশের এই অদ্ভুত কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামনে আসতেই নাগরিক হেনস্তা ইস্যুতে ভারতজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় গাজিয়াবাদ পুলিশ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই পরিবারটি আদতে বিহারের আরারিয়ার বাসিন্দা। ২২ বছর বয়সি এক তরুণী এবং তার বাবা ৭৬ বছর বয়সি মহম্মদ সিদ্দিক বারবার দাবি করেন যে তারা ভারতীয়। মোবাইলে নিজেদের নথিপত্রও দেখান তারা। কিন্তু উপস্থিত পুলিশ কর্মীরা তাতে কর্ণপাত করেননি বলেই অভিযোগ।

পেশায় মাছ বিক্রেতা সিদ্দিক জানান, ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি গাজিয়াবাদে বসবাস করছেন, তবুও তাদের বাংলাদেশি বলে ভয় দেখানো হয়েছে।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গাজিয়াবাদ পুলিশ জানায়, ওই ভিডিও-র ঘটনা ঘটেছে গত ২৩ ডিসেম্বর। রোহিঙ্গা ও অবৈধ বাংলাদেশিদের পাকড়াও করতে ভোয়াপুর বস্তিতে ওই দিন অভিযান চালায় পুলিশ, আরআরএফ ও সিআরপিএফ। সে অভিযানের সময় বস্তির বাসিন্দাদের আধার কার্ড পরীক্ষা করা হয়।

উত্তর প্রদেশ পুলিশের ডিসিপি নিমিশ পাতিল জানান, রুটিন তল্লাশির সময় ওই ভিডিওটি ধারণ করা হয়। তবে ভিডিওর সত্যতা এবং পুলিশের আচরণের ধরণ খতিয়ে দেখতে ইন্দিরাপুরম সার্কেলের এসিপিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সাধারণত সংবেদনশীল এলাকায় অপরাধ রুখতে এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ এই ধরনের মহড়া চালায়।

প্রসঙ্গত, গত বছরের শেষ কয়েক মাসে শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে হেনস্তার শিকার হয়েছেন অনেক ভারতীয়। সম্প্রতি বাংলা ভাষাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর ওড়িশায় অমানবিক অত্যাচারের ঘটনা সামনে আসে।

দিন কয়েক আগেই প্রাণ বাঁচাতে জঙ্গলে আশ্রয় নিতে হয় পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার এক পরিযায়ী শ্রমিককে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে হামলার ঘটনার প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের সাবেক সংসদ সদস্য কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী।