ছবি:সংগৃহীত
কারখানা খোলার দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতন ও বন্ধ হয়ে যাওয়া এ. এ. ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড পুনরায় চালুর দাবিতে আজ মঙ্গলবার সকালে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। সকাল ১১টার দিকে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নগরহাওলা এলাকায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, সেপ্টেম্বর মাসের বেতন না পেয়ে শ্রমিকরা গত ২৩ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু করেন। সে সময় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে বকেয়া বেতন পরিশোধ ও দ্রুত কারখানা চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন।
কিন্তু সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে শ্রমিকরা কর্মস্থলে এসে কারখানার মূল ফটকে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা’ লেখা একটি নোটিশ ঝুলতে দেখেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পরদিন সকাল থেকে আবারও সড়কে নামে।
কারখানার শ্রমিক সুজন বলেন, “সকাল ১০টার মধ্যে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত হবে বলে পুলিশ জানায়। কিন্তু ফটকে এসে দেখি আগের মতোই বন্ধের নোটিশ ঝুলছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলাম, হঠাৎ পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে।”
অন্য শ্রমিক ঝুটন মিয়া বলেন, “আমরা বছরের পর বছর এই কারখানায় কাজ করছি। কয়েক মাস ধরে বেতন বকেয়া ছিল। হঠাৎ করে কোনো সমাধান না দিয়েই কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে—এটা শ্রমিকদের প্রতি চরম অবিচার।”
কারখানার মানবসম্পদ কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন জানান, “২৩ অক্টোবর শ্রমিকেরা বেতন দাবির সময় কারখানার ভেতরে ভাঙচুর চালায়, এতে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণেই মালিকপক্ষ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।”
শিল্প পুলিশের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আব্দুল লতিফ বলেন, “শ্রমিকেরা শুরুতে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করলেও পরে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে শ্রমিকেরা দফায় দফায় রাস্তায় নেমে আসছে।”
এ. এ. ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড শ্রীপুর উপজেলার অন্যতম বড় টেক্সটাইল কারখানা, যেখানে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিকেল পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো বেতন প্রদান ও শ্রমিক–মালিক আস্থার সংকট নিরসন না হলে এ ধরনের সংঘাত আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।