নদী ভাঙনে বিলীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান
- আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১১৭ বার পড়া হয়েছে
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

ছবি:সংগৃহীত
নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন মাদরাসাটি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত দুইটি টিনসেড ঘরের বেড়া, চাল খুলে রাখা হয়েছে রাস্তার পাশে। ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকে এসে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে দেখেন তাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার দৃশ্য। কয়েকদিন পর মাদরাসার পাশে প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে শুরু করা হয় পাঠদান। এর পর থেকে গত দুমাস ধরে খোলা আকাশের নিচে গাছতলায় চলছে কোমলমতি শিশুদের পড়াশুনা। এই দৃশ্য নোয়াখালী হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের ইসলামপুর দাখিল মাদরাসা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ইসলামপুর বাজারের দক্ষিণ পাশে মাদরাসা প্রধান মাওলানা আব্দুল আহাদের বাড়িপাঠতে চলছে শিশুদের দান। ১০-১২টি বেঞ্চে প্রায় অর্ধশতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে পাঠদানে ব্যস্ত দুজন শিক্ষক। গলাপাটিয়ে শিক্ষক বলছেন সঙ্গে সঙ্গে শিশুরাও তার মতো করে চিৎকার করে করেব্র পড়ছেন। রোদের মধ্যে তীব্র গরমে ঘামছে শিশুরা।
সাংবাদিকদের দেখে শিক্ষকদের পাশাপাশি ছুটে আসেন স্থানীয়রা। ঘুরে ঘুরে দেখান নদীতে ভেঙ্গে পড়ার অপেক্ষায় থাকা মাদরাসার ভিটির কিছু অংশ। আগামী দু-একদিনের মধ্যে হয়তো মাদরাসার কোন চিহ্ন এখন আর পাওয়া যাবে না। পাশেই আধপাকা মসজিদটি দাড়িয়ে আছে ভাঙনের ঝুঁকিতে। রাস্তার ওপর মাদরাসার টিনসেডের ঘরগুলো খুলে রাখা হয়েছে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে।
সিরাজগঞ্জে ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তায় ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ
মাদরাসার সহকারী শিক্ষক এ টি এম আমিরুল ইসলাম জানান, ৩০০ ছাত্র-ছাত্রী ছিল এই মাদরাসায়। মাদরাসার সঙ্গে সঙ্গে অনেক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ায় অনেকে অন্যত্র চলে গেছেন। এখনও প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী আসেন অস্থায়ী ভিত্তিতে চলা এই পাঠদানে। সবাইকে জায়গা দেওয়া যায় না। দুই তিন ভাগে ভাগ করে পড়াতে হয়। রোদের মধ্যে তারা বেশি সময় থাকতে পারে না। আবার খোলা আকাশের নিচে হওয়ায় বৃষ্টি এলে সবাইকে চলে যেতে হয়। এখন আর কেউ বেতন ভাতা দেয় না।
ইসলামপুর বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল খালেক জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় ২০০১ সালে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই অঞ্চলে ভালো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। এজন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীও ছিল অনেক। সবাই সহযোগিতা ও করেছেন। ১৫০ শতক জায়গার ওপর নির্মিত মাদরাসাটিতে দুটি বিশাল টিনের ঘর তৈরি করা হয়। কিন্তু নদী ভাঙনে নিমিষে সব শেষ।
তিনি আরও জানান, গত ১০ বছরে চানন্দী ইউনিয়নের অব্যাহত ভাঙনে প্রায় অধ শতাধিক মসজিদ, মাদরাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখনো ভাঙ্গন অব্যাহত আছে। অনেকে ভাঙনের কবলে পড়ে অন্যত্র বাসস্থান তৈরি করে নিয়েছে।
মাদরাসার প্রধান মাওলানা আব্দুল আহাদ বলেন, নদী একেবারে নিকটে চলে আসায় গত দুই মাস আগে মাদরাসায় পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখনো মাদরাসায় ছাত্র-ছাত্রী ছিল ২৮৫ জন। এর পর মাদরাসার ঘরের ভেড়া চাল খুলে পেলা হয়। এর পর থেকে অনেকদিন পাঠদান বন্ধ । অনেক শিক্ষার্থী নিজেদেরকে অন্য পেশায় নিয়োজিত করেছে। আবারঅনেকে পড়া লেখা বন্ধ করে দিয়েছে। নদী ভাঙনে এই অঞ্চলের মানুষজন অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছে। মাদরাসার ঘরের মতো অনেকে নিজেরে ঘর খুলে রাস্তার ওপর ফেলে রেখেছে। অন্যত্র জায়গার ব্যবস্থা করতে না পারায় অস্থায়ী খুপরি করে বসবাস করছে।
আব্দুল আহাদ আরও বলেন, মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বাড়িতে খোলা আকাশের নিচে পাঠদানের ব্যবস্থা করেছেন। ৭ জন শিক্ষকের মধ্যে সবাই অন্য জায়গায় চলে গেছেন। এখন তিনিসহ দুজন প্রতিদিন আসা ৭০-৮০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করান। তাতে অনেক সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। ইতিমধ্যে পশ্চিম পাশ থেকে নদী ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়েছে। তাদের এদিগেও কাজ হবে বলে শুনেছেন। এজন্য মাদরাসার জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। কোথাও কোন জায়গার ব্যবস্থা করতে পারলে খুলে রাখা এসব ঘর আবার সেখানে নির্মাণ করা হবে।





















