টাকার জন্য লাশ আটকে রেখেছিল হাসপাতাল, ছাড়ালেন ডিসি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:০৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫ ২০০ বার পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

সময়ের সন্ধানে মিডিয়া লিঃ সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি:সংগৃহীত

রাজবাড়ীর কালুখালির মাঝপাড়া গ্রামের রিংকু শরীফের মেয়ে পিংকি শরীফ (২৫) শুক্রবার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিলের অজুহাতে লাশ আটকে রাখে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে নারায়ণগঞ্জের ডিসি জাহিদুল ইসলামের নজরে আসে। পরে তার দ্রুত পদক্ষেপের ফলে অবশেষে ১৪ ঘণ্টা পর অসহায় পরিবারের হাতে ফিরে আসে পিংকির লাশ।

জানা গেছে, পিংকি শরীফ শুক্রবার সকাল ৮টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যায়। তার নবজাতক কন্যা তখনও মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর লাশ আটকে রেখে ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল দাবি করে। নিহত পিংকির বাবা ধারদেনা করে ৪০ হাজার টাকা জোগাড় করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লাশটি ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ জানান। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি হয়নি।

এ ঘটনার একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের নজরে আসে।  তিনি সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনির সঙ্গে এবং বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধ জানান।

অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি দ্রুত বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মঈনুল হাসানকে জানান। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং রিংকু শরীফের কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য নেন। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই রিংকুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেয়। অবশেষে টানা ১৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পিংকির মরদেহ ও তার নবজাতক কন্যাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি শনিবার বলেন, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক বিষয়টি জানিয়ে অনুরোধ করেছিলেন। আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মঈনুল হাসানকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলি। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিষয়টি সমাধান করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মঈনুল হাসান বলেন, অতিরিক্ত সচিব মহোদয়ের নির্দেশ পেয়ে আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। রোগীর পরিবারের আর্থিক অসুবিধার কথা জানিয়ে মানবিক কারণে লাশ হস্তান্তরের অনুরোধ করি। তারা সম্মত হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে লাশ ও নবজাতক হস্তান্তর করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে আমি আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি। যেহেতু বিষয়টি আমার দায়িত্বপূর্ণ জেলার বাইরে ঘটেছে, তাই আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি স্যারকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিনীত অনুরোধ করি। বাকি সব ব্যবস্থাপনা করেছেন শেখ মোমেনা মনি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মঈনুল হাসান।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্বের বাইরে হলেও যেকোনো মানবিক কাজ করে যে আত্মিক প্রশান্তি পাওয়া যায়, তা কোটি টাকা খরচ করেও পাওয়া সম্ভব নয়।

পিংকির বাবা রিংকু শরীফ বলেন, আমার মেয়ের নবজাতক কন্যাও রাতে মারা গেছে। মা ও মেয়েকে একসঙ্গে দাফন করেছি গ্রামের বাড়ি কালুখালিতে। জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি এবং ডা. মঈনুল হাসানের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। তারা কেউ আমাকে চিনতেন না, তবুও মানবিক কারণে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন।

পিংকির চাচা জিরু সর্দার জুয়েল বলেন, তাদের সাহায্য না পেলে আমরা টাকা ছাড়া লাশ বের করতে পারতাম না। আমরা তাদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।

নিউজটি শেয়ার করুন

টাকার জন্য লাশ আটকে রেখেছিল হাসপাতাল, ছাড়ালেন ডিসি

আপডেট সময় : ০৫:০৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

ছবি:সংগৃহীত

রাজবাড়ীর কালুখালির মাঝপাড়া গ্রামের রিংকু শরীফের মেয়ে পিংকি শরীফ (২৫) শুক্রবার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিলের অজুহাতে লাশ আটকে রাখে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে নারায়ণগঞ্জের ডিসি জাহিদুল ইসলামের নজরে আসে। পরে তার দ্রুত পদক্ষেপের ফলে অবশেষে ১৪ ঘণ্টা পর অসহায় পরিবারের হাতে ফিরে আসে পিংকির লাশ।

জানা গেছে, পিংকি শরীফ শুক্রবার সকাল ৮টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যায়। তার নবজাতক কন্যা তখনও মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর লাশ আটকে রেখে ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল দাবি করে। নিহত পিংকির বাবা ধারদেনা করে ৪০ হাজার টাকা জোগাড় করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লাশটি ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ জানান। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি হয়নি।

এ ঘটনার একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের নজরে আসে।  তিনি সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনির সঙ্গে এবং বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধ জানান।

অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি দ্রুত বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মঈনুল হাসানকে জানান। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং রিংকু শরীফের কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য নেন। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই রিংকুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেয়। অবশেষে টানা ১৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পিংকির মরদেহ ও তার নবজাতক কন্যাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি শনিবার বলেন, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক বিষয়টি জানিয়ে অনুরোধ করেছিলেন। আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মঈনুল হাসানকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলি। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিষয়টি সমাধান করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মঈনুল হাসান বলেন, অতিরিক্ত সচিব মহোদয়ের নির্দেশ পেয়ে আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। রোগীর পরিবারের আর্থিক অসুবিধার কথা জানিয়ে মানবিক কারণে লাশ হস্তান্তরের অনুরোধ করি। তারা সম্মত হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে লাশ ও নবজাতক হস্তান্তর করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে আমি আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি। যেহেতু বিষয়টি আমার দায়িত্বপূর্ণ জেলার বাইরে ঘটেছে, তাই আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি স্যারকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিনীত অনুরোধ করি। বাকি সব ব্যবস্থাপনা করেছেন শেখ মোমেনা মনি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মঈনুল হাসান।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্বের বাইরে হলেও যেকোনো মানবিক কাজ করে যে আত্মিক প্রশান্তি পাওয়া যায়, তা কোটি টাকা খরচ করেও পাওয়া সম্ভব নয়।

পিংকির বাবা রিংকু শরীফ বলেন, আমার মেয়ের নবজাতক কন্যাও রাতে মারা গেছে। মা ও মেয়েকে একসঙ্গে দাফন করেছি গ্রামের বাড়ি কালুখালিতে। জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি এবং ডা. মঈনুল হাসানের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। তারা কেউ আমাকে চিনতেন না, তবুও মানবিক কারণে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন।

পিংকির চাচা জিরু সর্দার জুয়েল বলেন, তাদের সাহায্য না পেলে আমরা টাকা ছাড়া লাশ বের করতে পারতাম না। আমরা তাদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।