ছবি: সংগৃহীত
কয়েক দিন আগেই বিশ্ববাসী উপভোগ করেছে একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। বিরল সে মহাজাগতিক ঘটনা ছিল খালি চোখে দেখার মতো। এবার দুয়ারে কড়া নাড়ছে বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) চাঁদ তার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসবে। এর ফলে চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়বে এবং কিছু সময়ের জন্য সূর্য আংশিকভাবে ঢেকে যাবে। এতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সূর্যের আলো পৃথিবীতে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে দেখা যাবে না। আজকের গ্রহণটি হবে আংশিক সূর্যগ্রহণ।
এই সূর্যগ্রহণটি বাংলাদেশ থেকে খালি চোখে দেখা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ এটি উপভোগ করতে পারবেন টেলিভিশন বা অনলাইন সম্প্রচারের মাধ্যমে।
অন্যদিকে, অ্যান্টার্কটিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ সূর্যগ্রহণটি সরাসরি দেখতে পাবেন। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, অ্যান্টার্কটিকা এবং প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি দ্বীপ থেকে সূর্যগ্রহণটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টাইম (বিএসটি) অনুযায়ী সূর্যগ্রহণ শুরু হবে ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ২৯ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে। সর্বোচ্চ গ্রহণ হবে ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৪১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এবং গ্রহণ শেষ হবে রাত ৩টা ৫৩ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে। গ্রহণের মোট স্থায়িত্বকাল প্রায় ৪ ঘণ্টা ২৪ মিনিট।
সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে নিউজিল্যান্ড, পূর্ব মেলানেশিয়া, দক্ষিণ পলিনেশিয়া ও পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলে।
খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখা
সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের উজ্জ্বলতা কমে গেলেও এর অতিবেগুনি (UV) ও ইনফ্রারেড (IR) রশ্মি তখনও প্রবল থাকে। খালি চোখে বা সাধারণ সানগ্লাস ব্যবহার করে সূর্যের দিকে তাকালে এসব ক্ষতিকর রশ্মি সরাসরি চোখের রেটিনায় আঘাত করে। এতে রেটিনার কোষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা সোলার রেটিনোপ্যাথি নামে পরিচিত। এর ফলে স্থায়ী অন্ধত্ব বা চোখের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সূর্যগ্রহণের গতিপথ
গ্রহণের কেন্দ্রীয় গতিপথের বিবরণ অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ৫৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামোয়া দ্বীপের উত্তর-পূর্ব দিকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে গ্রহণ শুরু হবে। সর্বোচ্চ গ্রহণ দেখা যাবে সকাল ১০টা ১৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে অ্যান্টার্কটিকার ডুমন্ট ডি’উরভিল আবহাওয়া কেন্দ্র থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে। গ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে অ্যান্টার্কটিকার আলেকজান্ডার দ্বীপ থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে।