খালেদা জিয়া আপসহীন রাজনীতির অনন্য দৃষ্টান্ত: আমীর খসরু
- আপডেট সময় : ১১:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭৩ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ক্ষমতার বাইরে থেকেও বেগম খালেদা জিয়া জীবনের দীর্ঘ সময় রাজপথের আন্দোলনের মধ্যদিয়ে কাটিয়েছেন এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে এক মুহূর্তের জন্যও আপস করেননি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউরী আলমাস সিনেমা সংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, মাত্র ১০-১১ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও প্রায় তিন দশক ধরে খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের পক্ষে আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যখন অনেকেই আপস করেছেন বা সরে দাঁড়িয়েছেন, তখন তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবিচল ছিলেন। এখানেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা।
যারা বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল, আজ তারা প্রতিপক্ষ: এ্যানি
তিনি বলেন, মার্টিন লুথার কিং কিংবা নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতাদের আপসহীনতার সঙ্গে খালেদা জিয়ার ত্যাগের তুলনা করা যায়। জীবদ্দশায় তার ত্যাগের গভীরতা পুরোপুরি উপলব্ধি না হলেও তার প্রয়াণের পর মানুষ বুঝতে পেরেছে তিনি বাংলাদেশের মানুষের মনে কতটা গভীর জায়গা করে নিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের যে মশাল খালেদা জিয়া জ্বালিয়ে গেছেন, তা এখন তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত। এই মশাল বহন করা আমাদের সবার দায়িত্ব। গণতন্ত্রের লড়াই এখানেই শেষ নয়। নির্বাচন পরবর্তী সময় আরও কঠিন হতে পারে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তার আদর্শ ধারণ করে শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, ড. সুকোমল বড়ুয়া, এস এম ফজলুল হক, একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক এবং ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন।
৫ আগস্টের মতো ভোটকেন্দ্রেও গণজাগরণ ঘটাতে হবে: তারেক রহমান
গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশের মানুষের নেতা। তার জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণই তার প্রমাণ।
এম এ মালেক বলেন, নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে ভয়, চাপ কিংবা ক্ষমতার মোহ কোনো কিছুর কাছেই খালেদা জিয়া আপস করেননি। তিনি শুধু গণতন্ত্রের কথা বলেননি, নিজেই গণতন্ত্রের পথে হেঁটেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি ছিলেন দেশের মানুষের হৃদয়ের নেত্রী।
ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ় সংকল্প ও অটল বিশ্বাসের এক বিরল নেতৃত্বের প্রতীক। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিহাসে এক অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, প্রগতিশীল আদর্শ এবং জাতির সেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যদিও তার প্রয়াণে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা অপূরণীয়, তবে তার দর্শন চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি যে মূল্যবোধ ও কৌশলগত ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন, তা ভবিষ্যতেও ভারত ও বাংলাদেশের গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে যৌথ প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।
ডা. শাহনাজ মাবুদ শিলভীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে তুরস্কের কনসাল জেনারেল সালাউদ্দীন কাশেম খান, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, ইস্ট ডেলটা ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দীন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ এরশাদ উল্লাহ, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাইদ আল নোমান, চট্টগ্রাম ক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক এস এম তারেক, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ড. জিন বোদি ভিক্ষু, চট্টগ্রাম নাগরিক ঐক্যের সভাপতি স্বপন মজুমদার, চমেক ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, বিএমএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরীসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
























